সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি : ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়! সুষ্ঠ ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রচেষ্টায় মনোযোগী নির্বাচন কমিশন। আর নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করতে গিয়ে বংশপরম্পরায় যে মানুষদের বাস বঙ্গের মাটিতে, নির্বাচন কমিশন তাদের অনেককেই তলব করছে শুনানিতে। এদের প্রায় সবাই ২০০২ সাল বা ২০২৪ সালের ভোটার তালিকাতে ছিলেন। তাঁরা মৃত নন, ডবল-ট্রিপল এন্ট্রি ভোটার নন, স্থানান্তরিত ভোটার ও নন। মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ হওয়া কি অস্বাভাবিক? ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছেও। যে চিত্র সামনে আসছে তার ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে, আগে যা ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের ক্ষোভের কারণ এখন তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। বারাসাতে এসআইআর ঘিরে মঙ্গলবার ধুন্ধুমার কান্ড। তবে এদিনের বারাসাতে অবরোধ ছিল তৃণমূলের সংগঠিত করা কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু বিক্ষোভ সামিল মানুষরা বলছেন তাঁরা রাজনৈতিক দলের কর্মী নন।
তৃণমূলের অভিযোগ- দিন আনি দিন খাই মানুষের, অসুস্থ – বৃদ্ধ- বৃদ্ধাদের, লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া মানুষদের পরিবারের ক্ষোভ ও হাহাকারে পরিণত হয়েছে এসআইআর আর তাকে ঘিরেই রাস্তায় নামছে মানুষ। প্রসঙ্গত, এখনও এসআইআর-এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হতে বাকি আরও ২৫ দিন বাকি, তার আগেই বঙ্গের দিকে দিকে ক্ষোভ এসআইআর নিয়ে। মঙ্গলবার এসআইআর ও মানুষের হয়রানি ক্ষোভ প্রকাশ পেল উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসাতে। বারাসতে যশোহর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিছিলে তৃণমূলের পতাকা সেভাবে দেখা যায় নি। দেশের পতাকা দেখা গিয়েছে, তৃণমূলেরও দাবি বারাসাতে তাঁরা সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ক্ষোভে সামিল করেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, তাঁরা রাজনৈতিক কারণে নয়, স্বেচ্ছায় ও অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। মানুষের হয়রানির কারণ হিসেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমিত দক্ষতার অজুহাত তাঁরা শুনতে নারাজ।
Oplus_131072
মঙ্গলবার বারাসাতের কাজিপাড়া এলাকার শতাধিক মানুষ গেঞ্জি মিল মোড়ে জাতীয় সড়কের উপর বসে পড়েন। এমনকি, প্রতিবাদ জানাতে অনেককেই রাস্তার উপর শুয়ে পড়তেও দেখা যায়।” মানছি না এসআইআর ” – স্লোগান উঠল! ঘটনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ যশোর রোডে যান চলাচল সাময়িক ভাবে স্তব্ধ হয়ে যায়। বারাসত থানার পুলিশ তড়িঘড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে প্রশ্ন উঠছেই। আশঙ্কাও রয়েছে।
এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক বা আমজনতার ক্ষোভ বঙ্গে সীমা ছাড়িয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষোভের সঙ্গে আমজনতার ক্ষোভ মিশে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মানুষ চিন্তিত, আতঙ্কিত ও দিশেহারা। মঙ্গলবার বারাসাতের ক্ষোভ আপাত প্রশমিত, ক্ষোভ ধামাচাপা দিয়েছে পুলিশ। তবে ক্ষোভ-বিক্ষোভ যে পথ ধরে যেদিকে এগোচ্ছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে ক্ষোভের পারদ কতটা উর্দ্ধমুখী হতে পারে তা ভেবে আতঙ্কিত প্রশাসনও। কাজীপাড়ায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ আধিকারিক বললেন, পরিস্থিতি খারাপ দিকেই এগোচ্ছে।
বিজেপি প্রথম থেকেই এসআইআর-এর হয়ে তদবির করছে এবং এসআই এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৃণমূলের সংগঠিত রাজনৈতিক প্রচার বলে দাবি করে এসেছে। এসআইআরএর তালিকা প্রস্তুত হওয়ার প্রথমদিকে এই অভিযোগ অনেকটাই বাস্তব হলেও, এই মুহূর্তে চিত্র ভিন্ন দাবি বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং সমাজকর্মীদের । তাঁদের মন্তব্য, এসআইআরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে সর্বাধিক কাজ করছে যাদের সাথে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক সংযোগ নেই এবং তাঁরা দিনের শেষে খাদ্যের জোগাড় করতে চেষ্টা করেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে ভবিষ্যতে কি হবে ভেবে তারা আতঙ্কিত, বাধ্য হয়ে তাঁরা ঘন্টার পর ঘন্টা শুনানিতে হাজির থাকছেন।
এসআইআরে প্রায় প্রতিটি জেলায় এরকম অনেক ব্লক আছে যেখানে অধিকাংশ বুথে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ নামের, বয়সের বা পিতা- পিতামহের ম্যাপড বা আনম্যাপড ভোটারের তথ্যগত ত্রুটি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিরর জন্য শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন। অভিযোগ, কাজ ফেলে রেখে বা অসুস্থ অবস্থায় একাধিক দিন ও হাজির হতে হচ্ছে বেশ কিছু মানুষকে। শুনানিতে সারাদিন কেটে যাচ্ছে। সেলিব্রিটিরাও বাদ পড়ছেন না, স্বাভাবিকভাবেই ছাড় নেই আমজনতার , ক্ষোভও বাড়ছে। আগামী ২৫ দিনে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ -বিক্ষোভ কোন দিকে অভিমুখ নেবে তা সময়ই বলবে তবে এসআইআর নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভের আগাম ভাবনা অন্তত প্রশাসনের কাছে খুব সুখবর নয় ।।
More Stories
ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে ঐতিহাসিক সুপ্রিম রায়
ডিটেনশন ক্যাম্পে না যেতে চেয়ে ৬ জনের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?