সানি রায়, সময় কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি : হাড়হিমকরা অবিশ্বাস্য ঘটনা বললেও কম বলা হয়। ফিল্মি সাসপেন্স- থ্রিলার হার মেনে যাবে এমনই ঘটনার ঘনঘটা। প্রতিবেশী ও স্ত্রীর প্রেমিকের হতে স্ত্রীকে তুলে দিয়েও বিষয়টি মানতে পারেন নি স্বামী। কয়েকদিনের মধ্যেই খুন করে বসলেন স্ত্রীকে। খুনের পরে অস্ত্রসমেত থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর। শনিবার উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ির ঘটনা।
ফ্ল্যাশব্যাক : একদা স্ত্রী সোমার সঙ্গে প্রতিবেশী চিরঞ্জিতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেই সন্দেহ করতেন স্বামী শ্রীকান্ত। শ্রীকান্ত সোমার অবাধ মেলামেশার প্রমাণও পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন অশান্তি হওয়ার পরে স্ত্রী অবশেষে স্বামীর অভিযোগ মেনে নেন। বলেন, প্রতিবেশী চিরঞ্জিতকেই ভালোবাসেন তিনি । চিরঞ্জিতের ঘর করতে চান সোমা। স্বামী আইনের রাস্তায় হাঁটেন নি।নিজেই হয়ে ওঠেন বিচারক। প্রেমিকের হাতে স্ত্রীকে তুলে দেন তিনি। সোমা – চিরঞ্জিত একসাথে থাকতে শুরু করুন কিন্তু বিচারক স্বামী বিষয়টি মন থেকে মানতে পারেননি। তখন হয়তো ভাগ্য দেবী অলক্ষ্যে হাসছিলেন।
অভাবনীয় পরিণতি: শনিবার আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে চিরঞ্জিতের বাড়িতে হানা দেন শ্রীকান্ত। বিচারক রূপ পাল্টে হয়ে ওঠেন কশাই। জল্লাদ হয়ে অন্যের ঘরণী হয়ে ওঠা স্ত্রীকে দণ্ডবিধান দেন ক্ষিপ্ত স্বামী, ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে রক্তা্প্লুত হয়ে লুটিয়ে পড়েন স্ত্রী, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। সেসময় প্রেমিক চিরঞ্জিত ঘরে ছিলেন না। চিরঞ্জিতের মা আটকাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু উন্মাদসম শ্রীকান্তের সামনে তাঁর ও প্রাণসংশয় দেখা দেয়।
স্ত্রীকে ” চরম শাস্তি স্বরূপ ” খুন করার পরে শ্রীকান্ত রক্তমাখা অস্ত্র হাতে নিয়ে রণক্লান্ত সৈনিকের মতো রাজপথ ধরে কিলোমিটার খানেক হেঁটে সোজা চলে যান থানায়। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধুপগুড়ি জুড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ধুপগুড়ি থানার পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখছে। হত্যাকারীর মানসিক ভারসাম্য রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
More Stories
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?