দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ২৩ জুলাই : আর বিলম্ব নয়। জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র নিয়ে দুর্নীতি রোধে রাজ্যের কড়াকড়ি ও নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে পুরসভাগুলিতে হাজির হয়ে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে পুলিশ অধিকারিকদের।রাজ্যের সমস্ত জেলা পুলিশ সুপার (SP) ও পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিস থেকে জন্ম-মৃত্যুর সমস্ত শংসাপত্র ও রেজিস্টার খতিয়ে দেখে তা স্ক্যান ও নিরাপদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য দরকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো হবে। কোনও ভুয়ো শংসাপত্র মিললে তা অবিলম্বে বাতিল করা হবে এবং জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতার করবে।কোনও পুরপ্রধান, মেয়র বা পঞ্চায়েত প্রধান আর শংসাপত্র দিতে পারবেন না। এমতাবস্থায় শুরু পুলিশি অভিযান। বারাসাত পুরসভায় হাজির জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।
উত্তর ২৪ পরগনা সদর শহর বারাসাতে বেশ কিছুদিন ধরেই পুরসভা টালমাটাল অবস্থার মধ্যে চলেছে। ইতিমধ্যেই পুরসভার বিরুদ্ধে নিয়োগ জনিত দুর্নীতির ক্ষেত্রে জন্মের শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জী। জন্ম মৃত্যু নিয়ে শংসাপত্রের ক্ষেত্রে একদিকে সরকারের নির্দেশিকা অন্যদিকে একাধিক প্রশ্নচিহ্ন- আর এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার বারাসাত পুরসভায় হাজির হলেন বারাসাত জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র যাচাই করতে গিয়ে একাধিক ভুয়ো শংসাপত্রের হদিশ পেয়েছে রাজ্য। সরকারি নির্দেশনামা অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত ও মিউনিসিপ্যালিটির অফিসগুলি থেকে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংরক্ষণ করতে চলেছে রাজ্য পুলিশ। আগামী দিনে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে কোনও সময় তদন্তের প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে সংরক্ষণে থাকা এই সার্টিফিকেটগুলি নিয়ে তারা তদন্ত করতে পারবে। বৃহস্পতিবার সাত সকালে বারাসাত পৌরসভায় এসে উপস্থিত হলেন বারাসাত জেলা পুলিশের আধিকারিকরা। এদিন দীর্ঘক্ষণ বারাসাত পৌরসভায় দায়িত্বে থাকা প্রশাসক দেবলীনা সেনের ঘরেতে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন তারা। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর জেলার পুলিশ সুপার জে মার্সি-র নেতৃত্বে এদিন বারাসাত থানার পুলিশকে সাথে নিয়ে বারাসাত পৌরসভায় আসেন এসডিপিও বারাসাত শুভঙ্গি সুদর্শণ কেকান । দীর্ঘক্ষণ তারা প্রশাসকের ঘরে বসে পর্যালোচনা করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পুলিশ আধিকারিক থেকে প্রশাসক কেউই মুখ খুলতে চান নি। তবে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাঁধে নতুন দায়িত্বভার ন্যাস্ত হওয়ায় পুরসভায় তাঁদের আগমন ও উপস্থিতি তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কী রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে শংসাপত্রের রাজ্যের নতুন নির্দেশিকায়?
এক্ষেত্রে কড়াকড়ি এনে রাজ্য সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভুয়ো সার্টিফিকেট ও দুর্নীতি রুখতে পুরসভার চেয়ারম্যান, পুরনিগমের মেয়র বা পঞ্চায়েত প্রধানদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র (Birth and Death Certificate) ইস্যু করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থ অ্যান্ড ডেথ (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’ অনুযায়ী এখন থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র দেওয়ার অধিকারী।পুলিশ প্রশাসন এবং পুরসভাগুলির জন্য রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশিকা বিভিন্নভাবে বলবৎ হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই (কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী বাদে) এটি যাচাই ও ইস্যু করবেন।নাম ও ঠিকানার কড়াকড়িও করা হয়েছে। আবেদনপত্রে নামের কোনও সংক্ষিপ্ত রূপ (Abbreviation) ব্যবহার করা যাবে না, সম্পূর্ণ নাম (First, Middle & Last Name) লিখতে হবে। পিনকোড ও ওয়ার্ড নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ৩০ দিনের পর আবেদন করলে উপযুক্ত কারণ ও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।১ বছরের বেশি দেরি হলে জেলা শাসক (DM) বা মহকুমা শাসকের (SDO) অনুমোদন লাগবে।২ বছরের বেশি দেরি হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি বাধ্যতামূলক। হাসপাতালে না হয়ে বাড়িতে বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে মৃত্যু হলে, শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড MBBS বা স্বীকৃত আয়ুষ (AYUSH) চিকিৎসকের দেওয়া শংসাপত্র থাকলেই পুরসভা তা নথিভুক্ত করতে পারবে। পুলিশ প্রশাসন ও ভেরিফিকেশনের জন্য নির্দেশিকাও জারি। ১৯৯৭ সালের পর থেকে এযাবৎ নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Re-verification) করবে সরকার। এর ভিত্তিতে একটি অভিন্ন ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে তা কেন্দ্রের পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।।


More Stories
পুর-প্রশাসককে ঘিরে বিক্ষোভ বারাসাতে, পালিয়ে পরিত্রাণ খুঁজলেন পুর-প্রশাসক
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর