সময় কলকাতা, ২৭ জুলাই : সংসদের উভয় কক্ষেই দিনভর চলল হট্টগোল। বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের মাঝেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থার জন্য বিল পেশ হল লোকসভায়। তবে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে সংসদের উভয় ভবনে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রথমে দুপুর দুটো পর্যন্ত সংসদ স্থগিত করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অর্ধেও সংসদের চিত্র পাল্টায়নি। বিরোধীদের আপত্তি এবং তুমুল বিশৃংখলার মধ্যে লোকসভা বেলা পাঁচটা পর্যন্ত এবং রাজ্য সভা বেলা পাঁচটা পনেরো পর্যন্ত করে স্থগিত দেওয়া হয়।
সংসদের বাদল অধিবেশনে সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) বিরোধী দলগুলির তীব্র হট্টগোল ও স্লোগানবাজির মধ্যেই লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অত্যন্ত কড়া শাস্তির সংস্থান থাকা ‘পাবলিক এগ্জামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ পেশ করা হয় । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিলটি উপস্থাপন করেন।
প্রশ্নফাঁস-বিরোধী নতুন বিল পেশ ও কড়া শাস্তির ব্যবস্থাবিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিট (NEET) ও অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির ঘটনা রুখতে ২০২৪ সালের বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করে এই বিলটি আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে দোষীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করে সর্বোচ্চ ২ মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে। বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলে অধিবেশন ব্যাহত হয়। অধিবেশন শুরু হতেই নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর পুলিশের কথিত লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে বিরোধীরা সরব হন। লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই বিরোধী সাংসদদের ওয়েলে নেমে স্লোগানবাজি ও তুমুল বিশৃঙ্খলার কারণে সংসদের কার্যক্রম দফায় দফায় ব্যাহত হয় এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত করে দিতে হয়।
এছাড়াও,গত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোট (INDIA Bloc)। সংসদ চত্বরে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ জমায়েত হয় মকর দ্বারে। সংসদ ভবন শুরুর আগে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদ্রার নেতৃত্বে বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদের মকর দ্বারের সামনে প্লাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য শীর্ষ বিরোধী নেতারা শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি জুলুমের’ তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা প্রার্থনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দুপুরের পরে লোকসভা ও রাজ্যসভা শুরু হলেও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকায় সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে যায়। সংসদের উচ্চকক্ষে পাঁচটা পনেরো পর্যন্ত এবং নিম্নগক্ষে পাঁচটা পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত করা হয়।।


More Stories
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি অধীরের
বিরোধীরা কিছুই করতে পারবে না বললেন দিলীপ
জিডিপি বিতর্কের খেই ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বগুরু তকমা দিলীপ ঘোষের