সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সংঘাত। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক বয়কট করে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালো বিজেপি। বিক্ষোভের জেরে ভাষণ শুরু করতে পারেননি রাজ্যপাল। বিধানসভার ত্যাগ করার জন্য উদ্যোগী রাজ্যপালকে অনুরোধ করে থামান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক কথায় বলতে গেলে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর মুখেই সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হলো বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর মুখে ভাষণ দেওয়ার কথা রাজ্যপালের। তার আগে বিধানসভার প্রথম প্রথা মাফিক সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সর্বদলীয় বৈঠক এ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যোগ দিলেও বিজেপির কোন বিধায়ক অংশগ্রহণ করেননি। বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির সমস্ত বিধায়ক স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক বয়কট করেন। শুধু সর্বদলীয় বৈঠক বয়কট করাই নয় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়কেরা। ততক্ষণে রাজ্যপাল তার ভাষণ দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। কিন্তু বিক্ষোভের জেরে ভাষণ থেকে বিরত থাকেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। একদিকে বিজেপি বিধায়কদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ আর অন্যদিকে রাজ্যপালের ভাষণ স্থগিত। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুরো বিষয়টি শান্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে বারবার অনুরোধ করেন বিধানসভা ছেড়ে না যাওয়ার জন্য। অবশেষে রাজ্যপাল নিজে উদ্যোগী হন বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ থামাতে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ডেকে কথা বলেন এবং অনুরোধ করেন বিক্ষোভ থামানোর।
রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছিল। রাজ্য বাজেটের এই অধিবেশনের চিঠি মন্ত্রিসভার অনুমোদন না নিয়েই পাঠানো হয়েছিল রাজ্যপালের কাছে এবং সেই চিঠিতে ছিল একাধিক ভুল। পরে সেই ভুল সংশোধন করে পাঠানো হয়েছিল রাজ্যপালের কাছে। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার কার্যত রাজ্য সরকারকে তু্লোধনা করেছেন। এবং রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল একাধিকবার রাজ্য সরকারকে কাঠ গড়ায় তুলেছেন। ফলে এমনিতেই রাজ্য এবং রাজ্যপালের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল অনেক আগেই।
এদিন রাজ্য বিধানসভায় বিজেপির বিধায়কদের পুরভোটের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভকে পরিকল্পিত, অসাংবিধানিক এবং লজ্জার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে রাজ্যপালকে হেনস্থা করা হয়েছে এই অভিযোগে বিজেপি বিক্ষোভ মিছিল করে বিধানসভা থেকে রাজভবন পর্যন্ত। বাজেট অধিবেশনের শুরুর প্রথম দিনেই বিজেপির রণংদেহী মনোভাবে এটা পরিষ্কার বাজেট অধিবেশনের আগামী দিনেও সংঘাতের বাতাবরণ অব্যাহত থাকবে।
রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সংঘাত, আগামী দিনেও কি অব্যাহত থাকবে?


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?