পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাত: হতে পারেন তাঁরা রাশিয়ার মানুষ তবুও তলস্তয়, গোর্কি, পুসকিন, গোগোল, চেকভ – সবাই যেন বাঙালির আপনজন। বিখ্যাত লেখকদের দেশ রাশিয়া আগের মত আজও ভারতের মিত্ররাষ্ট্র । কলকাতা বইমেলা যখন চলছে তখন রুশ বাহিনী সামরিক হানায় মত্ত ইউক্রেনে।রাশিয়ার স্টল এবারও রয়েছে কলকাতা বইমেলায় কিন্তূ তাঁদের প্রদর্শনী শালা যেন এবার নির্জন দ্বীপ, জনমানবের দেখা মিলছে না সেভাবে । সরাসরি বিক্ষোভ না দেখালেও বাঙালি জনমানসে কি কোথাও রয়েছে ক্ষোভ?

রাশিয়ার স্টলে ঢুকলে খ্যাতনামা লেখকদের বই বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলা চোখে পড়বে। সমঝদার পাওয়া দুস্কর। আধঘন্টা ধরে অপেক্ষা করে গুটিকয়েক মানুষকে ঢুকতে দেখা গেল রাশিয়ার সংস্কৃতির স্বাদ নিতে। স্টলের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক গৌতম ঘোষের মতে এর কারণ একাধিক।তাঁর মতে প্রথমত,রাশিয়ার স্টল থেকে বই বা চিত্র বিক্রি করা হয় না। আগ্রহীরা পরে যোগাযোগ করে থাকেন। দ্বিতীয়ত,সবে অতিমারীজনিত সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে মানুষ। তবে মানুষের বইমেলায় রাশিয়ান স্টল মুখী হতে কিছুটা বাধা পেতে হচ্ছে তা স্বীকার করে নিয়ে গৌতম ঘোষ জানালেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার হওয়া বার্তা প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধ আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক বিষয় এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও যুদ্ধ বাঙালি মননে যে কোথাও একটা প্রভাব ফেলছে তা পরিষ্কার করে দিলেন রাশিয়ার স্টলে আসা পাঠিকা সুদেষ্ণা বৈদ্য।

পাশাপাশি রাশিয়ার স্টলে নিযুক্ত আধিকারিক গৌতম ঘোষ জানালেন ভুল বার্তায় প্রভাবিত না হয়ে সার্বিকভাবে উত্তরণের পথ। তাঁর বক্তব্যে ধরা পড়ল ভলদিমির জেলেনেস্কির বিরোধিতা। রাশিয়ার কাছের মানুষ ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ কে উৎখাত এবং ন্যাটো প্রসঙ্গের সরাসরি উল্লেখ না করে রাশিয়াকে ঘিরে ফেলার অভিযোগ তুলে আমেরিকার ভূমিকার নিন্দা সহকারে গৌতম ঘোষ জানালেন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে সাবেক রাশিয়ার বাইরে থেকে। তাঁর মতে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার কৃষ্টি সংস্কৃতির ক্ষেত্র অভিন্ন এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উস্কানি থেকে মুক্ত হতে পারলে রুশ ইউক্রেন সম্পর্কর উন্নতি ঘটবেই ।সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উত্তরণের বার্তা রাশিয়ার স্টল থেকে শোনা গেলেও জনমানুষের দেখা ভার। পাশাপাশি, ইরান বা জাপানের স্টলে গ্রন্থপিপাসুর আনাগোনা লেগেই আছে।

কলকাতা বইমেলা যেমন চলছে তেমনই হাজার হাজার মাইল দূরে রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। সংস্কৃতিপ্ৰিয় বাঙালির মনে কোথাও কী রেখাপাত করে না যুদ্ধ?কলকাতা বইমেলায় আসা গ্রন্থপ্রেমীদের অবচেতন মনেও কি উঁকি দিচ্ছে না পুতিনের রনংদেহী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ? তার-ই কি প্রতিফলন রাশিয়ার প্যাভেলিয়নে? খ্যাতনামা রুশ লেখক ও আঁকিয়েদের প্রদর্শনীশালায় নিস্তব্ধতা কিন্তূ সেই প্রশ্নকে আরও উসকে দিচ্ছে। তথাপি এরই মধ্যেই বইমেলা থেকে শান্তিকামনা আর উত্তরণের বার্তা ভেসে আসছে।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক