Home » কবিগুরুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি আর এক কবির, কুড়মালি ভাষায় রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’

কবিগুরুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি আর এক কবির, কুড়মালি ভাষায় রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’

সময় কলকাতা ডেস্কঃ আদিম জনজাতির একটি উল্লেখযোগ্য ভাষা হল কুড়মালি ভাষা। এবার সেই ভাষাতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’-এর অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন পুরুলিয়ার কবি অভিমুন্য মাহাত। পেশায় তিনি সাংবাদিক। গীতাঞ্জলি’-এর কুড়মালি অনুবাদ করে বইয়ের নাম রাখা হয়েছে ‘গিতেক নেহর’। কুড়মালি ছাড়া আর কোনও ভাষা যাঁরা জানেন না, তাঁরাও এবার কবিগুরুর এই কালজয়ী সৃষ্টির স্বাদ নিতে পারবেন বলেই জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, বিহার, অসম সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করেন কুড়মি জনজাতির মানুষ। তাঁদেরই ভাষা হল এই কুড়মালি। এই ভাষায় ভারতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খন্ড সরকার এই ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও স্বীকৃতি দেয়নি। ঝাড়খণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিভিন্ন স্কুলে নবম শ্রেণি থেকে কুড়মালি ভাষা পড়ানো হয়।

মূলত বাংলা, ওড়িশি, অসমিয়া, হিন্দি ভাষার লিপি ব্যবহৃত হয়। ‘গিতেক নেহর’ বইটিতে অভিমন্যু বাংলা হরফে ব্যবহার করেছেন কুড়মালি ভাষা। আর ভূমিকা লিখেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। তবে বইটিকে বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’-এর অনুবাদ বলতে রাজি নন অভিমন্যু মাহাত। বাংলা ‘গীতাঞ্জলি’তে ১৫৭টি কবিতা থাকলেও এই বইটিতে আছে মোট ১০৩টি কবিতা।

দীর্ঘদিন ধরেই লেখালেখির সাথে যুক্ত অভিমন্যু। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতার বই হল ‘মাটি’, ‘খিলিপান’, ‘আওলা বরষা ধনি’, ‘লাঙল, শুনছ?’ ইত্যাদি। ২০১৪ সালে ‘মাটি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্য অকাদেমি  পুরষ্কারও পান তিনি।

About Post Author