Home » নাবালক পুত্রকে মেরে আত্মঘাতী পিতা

নাবালক পুত্রকে মেরে আত্মঘাতী পিতা

সময় কলকাতা ডেস্ক :  বছর নয়ের মেয়েটির মুখে কথা নেই। একরত্তি মেয়েটি জানে না এবার কি হবে তার। সে কার্যত অকুল সমুদ্রে ভাসছে। একটু আগেই বাবা আর ভাইয়ের নিথর দেহ পুলিশ নিয়ে চলে গেল। পাড়ার সবাই বলছে ভাইকে মেরে বাবা আত্মহত্যা করেছে। এখন তার এবাড়িতে থাকার পাট যে উঠল! মা এসে যদি তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায় তবে খড়কুটো পেয়ে বাঁচে সে।  পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষ গ্রামে আত্মঘাতী অতীশ মজুমদারের একরত্তি মেয়েটি বুধবার দিশেহারা।

দাম্পত্য অশান্তির জের আর সইতে পারছিলেন না অতীশ মজুমদার । স্ত্রীর সঙ্গে কলহ ও বিচ্ছেদের টানা জেরে ৭ বছরের নাবালক পুত্র সহ আত্মঘাতী হলেন তিনি।খন্ডঘোষ থানা এলাকার  ৩৩ বছর বয়সী অতীশ মজুমদার ছেলেকে শেষঘুমে শুইয়ে দিয়ে বেছে নেন আত্মহননের পথ । প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পুত্রকে মেরে ফেলে তিনি আত্মহত্যা করেন।বুধবার বিকেলে  নবগ্রাম কলোনীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দুটি নিস্প্রান দেহ।

জানা গেছে, দশ বছর আগে বিয়ে হলেও সম্প্রতি স্বামীকে  ছেড়ে কুমিরকোলা গ্রামে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী রূপা মজুমদার । নয় বছরের কন্যা সন্তান ও সাত বছরের পুত্র সন্তানকে তাদের বাবার কাছেই রেখে যায় স্ত্রী। বেশ কয়েকবার স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও  ব্যর্থ হন অতীশ মজুমদার।

বুধবার দুপুরে মেয়ে বাইরে গিয়েছিল। তারপর থেকেই দীর্ঘ সময় বাবা এবং ছেলেকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। ঘর থেকে কোনও সাড়াশব্দও পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ডাকাডাকি শুরু করেন। অবশেষে কোনও সাড়া না পেয়ে, তাঁরা জানলা দিয়ে উকি মেরে দেখেন, ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন রূপার স্বামী। আর বিছানার নীচে পড়ে ছিল ছেলে অমরের নিথর দেহ। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ  হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে।।

About Post Author