সময় কলকাতা ডেস্ক : বারাসাত কালীকৃষ্ণ গার্লস স্কুলের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীর ভর্তিকে ঘিরে সমস্যা চলছিল। অভিযোগ উঠছিল অতিরিক্ত অনুশাসনের দোহাই দিয়ে প্রধানশিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত এক ছাত্রীর ভর্তিতে আপত্তি তুলছিলেন। আরও অভিযোগ,এক্ষেত্রে তিনি ছাত্রীর প্রতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত নির্দয় হয়ে উঠেছিলেন।আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল সভাপতি সোমা চ্যাটার্জী সরব হয়ে ওঠেন প্রধানশিক্ষিকার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রধানশিক্ষিকা সভাপতির বক্তব্য শুনতে নারাজ ছিলেন ও সভাপতি মধ্যস্থতা করতে গেলে তাঁকে হেনস্থা করেন ।এরপরই বিদ্রোহ ছড়ায় স্কুলের সহশিক্ষিকাদের মধ্যে।সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত স্কুলে প্রধানশিক্ষিকাকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ যা প্রশমিত করতে ঘটনাস্থলে আসে বারাসাত থানার পুলিশ।
প্রধানশিক্ষিকার “দাপট, মিথ্যাচার ও ভীতিপ্রদর্শনের” বিরুদ্ধে ছাত্রী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের সঙ্গে একজোট হয়ে গলা মেলান শিক্ষিকারা। তাঁরা বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ ছিলই ।রঞ্জনা মুখোপাধ্যায়, শান্তা চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ শিক্ষিকারা জানান দিলেন, স্কুল সংক্রান্ত বিভিন্ন তাঁরা নিজেরাতো অপদস্থ হচ্ছেনই, উল্টে ছাত্রীদের চারিত্রিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ,ছাত্রীদের শৈশব ও কৈশোর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে প্রধানশিক্ষিকার দুর্ব্যবহারে।স্কুলের সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে না। শান্তা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন জলের মত প্রয়োজনীয় সামান্য পরিষেবা নেই স্কুলে।শিক্ষিকাদের অভিযোগ, তাঁরা নিজেরাও প্রধানশিক্ষিকার আচরণে মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে পড়ছেন। শিক্ষিকারা সংবাদমাধ্যমের সামনে যৌথ অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষিকা তাঁর পদের অনুপযুক্ত এবং তিনি “মানসিক বিকারগ্রস্থ “। তাঁদের মতে,ছাত্রীদের যেমন মানসিক গঠন নষ্ট হচ্ছে তেমন স্কুলের সুনামও নষ্ট হচ্ছে।রঞ্জনা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন ,দশ থেকে আঠেরো বছরের মেয়েদের মানসিক গঠন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্ধ অনুসরণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যর্থতায় ঠেলে দিচ্ছে তাই প্রতিবাদ বাধ্যতামূলক।
স্কুলের অশিক্ষক কর্মচারীরাও শিক্ষিকাদের বিদ্রোহে সুর মেলান। ফলে প্রতিবাদ হয়ে ওঠে সার্বিক। অশিক্ষক কর্মচারীদের দাবী ছিল, সভাপতির প্রতি দুর্ব্যবহারের ক্ষমা চাইতে হবে প্রধানশিক্ষিকাকে। বিক্ষোভের জেরে স্কুলের নির্দিষ্ট সময়ের পরে সাড়ে চারঘন্টা আটকে থাকেন অবশেষে সাড়ে সাতটায় বাড়ি ফেরেন মৌসুমী সেনগুপ্ত। প্রধানশিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁকে এই স্কুল থেকে অপসারণ চেয়ে চক্রান্ত চলছে। তিনি নিয়ম নীতি মেনেই কাজ করেন, মাথা নত করে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন নেই, জানিয়েছেন মৌসুমী সেনগুপ্ত।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী