Home » পঞ্চমের জানা অজানা

পঞ্চমের জানা অজানা

সময় কলকাতা ডেস্ক :

“জিন্দেগী কে সফর মে গুজর যাতে হ্যায় যো মকাম ”

তথাগত বুদ্ধের পুত্রের ছিলেন রাহুল। এই নামের অর্থ  ‘সম্পর্ক ‘। রাহুল নামের অপর একটি অর্থ “দুঃখ বিজয়ী “।বলাবাহুল্য,রাহুল দেব বর্মন যিনি পঞ্চম নামেও খ্যাত, ছিলেন হিন্দি সিনেমা জগতে সুরকারদের মধ্যে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ। সত্তরের দশকে তিনি সুরকার হিসেবে বেতাজ বাদশা। সঙ্গীত স্রষ্টা হিসেবে অসামান্য হলেও রাহুল নামের মানুষটির নামের অর্থ সঠিক অর্থে ব্যাপ্তি পায় নি। তাঁর জীবনে বহু বন্ধু এসেছে ,কিন্তু বারবার বিচ্ছেদ বেদনা পেয়েছেন তিনি, এমনকি তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কগুলি ছিল জটিল। দুঃখকে তিনি জয় করেছিলেন একথাও বলা যাবে না।সারাটা জীবন সঙ্গীত সৃষ্টি দিয়ে গানের নতুন নতুন দিগন্ত খুলে দিলেও শেষ জীবনটা  তাঁর কেটেছে বেশ কষ্টেই। রয়ে গেছে তাঁর অমর সৃষ্টি। ২৯২ টি হিন্দি সিনেমা ছাড়াও ৩১টি বাংলা চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন রাহুল যার প্রায় প্রতিটি গান আজও মন ছুঁয়ে যায়।

“আনেওয়ালা পল যানেওয়ালা হ্যায় ”

পেয়াসার মহম্মদ রফির কণ্ঠে গাওয়া ” সর জো তেরা চকরায়ে ”    গানটি শুনেছেন? পেয়াসার সুরকার ছিলেন রাহুলের বাবা শচীন দেব বর্মন। কিন্তু ১৯৫৭ সালে জনি ওয়াকারের লিপে এই গানটির প্রকৃত সুরকার ছিলেন ১৮ বছরের তরুণ রাহুল দেব বর্মন যেটি অন্য গানের সঙ্গে এই সিনেমায় আরোপিত হয় । তারও অনেক আগে মাত্র ৯ বছর বয়সেই ” অ্যায় মেরে টোপি পলট ” গানটির সুর করেন তিনি যা পরবর্তীতে এস ডি বর্মন ফান্টুস মুভিতে ব্যবহার করেন। শৈশবেই  প্রতিভা প্রকাশ পেয়েছিল পঞ্চমের। ১৯৩৯ সালের ২৭ জুন জন্ম তাঁর। পঞ্চম নামকরণ তাঁর বাল্যকালের ক্রন্দনজনিত কারণে উপহার পাওয়া নাকি অশোককুমার আরোপিত তা নিয়ে মতভেদ আছে, মতভেদ নেই তাঁর প্রতিভা নিয়ে যার বিচ্ছুরণ মূলত ঘটে মূলত ১৯৫৮ সাল থেকে।

“কুছ তো লোগ কহেঙ্গে, লোগো কা কাম হ্যায় কহেনা ”

১৯৫৮ সালে ষোলভা সাল সিনেমায়”অ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা “গানটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় গান হয় জনপ্রিয়। আশির দশকে বাপি লাহিড়ী সহ অন্য সুরকারদের অন্য ঘরানার গান সুরকার রাহুলের অস্তিত্ব বিপন্ন করার আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর গানের কাজ পেতেও সমস্যা হয় নি। আশ্চর্যজনক ভাবে মায়াবী সুরের স্রষ্টা ঢাকা পড়ে যেতে থাকেন দ্রুতলয়ের সুরের আড়ালে। অথচ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর সারাজীবনের ৩৩১ টি সিনেমার  অনেক গানেই ছিল দ্রুত লয় ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ছোঁয়া। তাঁর কিছু গান ছিল হিন্দি গানে পাশ্চাত্য সুরের আদলে বিপ্লব যা তাঁর সেরা গানের সংকলন সমৃদ্ধ  অ্যালবামকে আর ডি এক্স তকমা দেয়। তবে রাগপ্রধান গানেও তাঁর কোনও তুলনা ছিল না তার প্রচুর নজির আছে যার অন্যতম “পড়োশন” মুভিতে মান্না -কিশোর যুগলবন্দী ।

” জীবন সে ভরি তেরি আঁখে ”

পরিচয় সিনেমার পরিচয় সিনেমায় “মুসাফির হুঁ ইয়ারো” গানটি প্রকাশ পায় তাঁর প্রথম স্ত্রী রীতা প্যাটেলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরে। ১৯৬৬ সালে দার্জিলিংয়ের পরিচয়, দ্রুত বিবাহ সম্পন্ন। বিয়ে মাত্র পাঁচ বছর টিকেছিল। পরবর্তীতে তাঁর চেয়ে ছয় বছরের বড় আশা ভোসলেকে বিয়ে করলে তাঁরা খুব কম সময়েই একসাথে থেকেছেন। আশা তাঁকে বন্ধু হিসেবেই মানতেন।১৯৯৪ সালে পঞ্চমের মৃত্যুতে কিছুটা হলেও দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন আশা ভোসলে।

“মেরে কুছ সামান তুমহারে পাশ পড়া হ্যায় ‘

নাইনটিন ফর্টি টু লাভ স্টোরি ছাড়া সেভাবে ছবিতে সুর দেওয়ার সুযোগ পান নি। কি এক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে, তাঁর গান থাকলে হিট হবে না ছবি! সুযোগ পেয়ে আবার নিজেকে সেরা প্রমাণ করলেও সময় শেষ হয়ে এসেছিল। ৫৪ বছর আর কয়েকটা মাস। ১৯৯৪ সালে সব “সামান ” বা সম্পদ রেখেই অজানায় পাড়ি দিলেন গানের জাদুকর।পঞ্চম তাঁর সব সম্পদই তো রেখে গেছেন শ্রোতাদের জন্য যার ঋণ অপরিশোধ্য।।

 

About Post Author