Home » সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের কি মর্মান্তিক পরিণতি!

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেমের কি মর্মান্তিক পরিণতি!

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন বছর ৪০ এর অধ্যাপিকা। কারণ তিনি নাটোরের ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছিলেন। রবিবার সকাল সাতটা নাগাদ সেই অধ্যাপিকা খায়রুন নাহারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাংলাদেশের নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন ওই ভাইরাল দম্পতি। নাটোর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহম্মদ নাসিমউদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফেসবুকে ২০২১ সালের ২৪ জুনে মামুনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল খায়রুন নাহারের। এরপর ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। স্বামী মামুনের দাবি, ভোর ৪টে নাগাদ তিনি বাথরুমে গিয়েছিলেন। ফিরে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে ওড়না পুড়িয়ে নিচে নামান তিনি। নাটোর সদর থানার পুলিস তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, অধ্যাপিকা আত্মহত্যা করেছেন।

প্রসঙ্গত, মামুন হোসেইন মৃত শিক্ষিকার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী। সে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা খায়রুন নাহারের প্রথম পক্ষের স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে মনমালিন্য হয় তাঁর। তাঁদের একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও বিচ্ছেদের পথ বেঁছে নেন তাঁরা। এরপরই অধ্যাপিকার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে আলাপ হয় মামুনের। এরপর গোপনেই তাঁরা একে অপরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং তাঁদের কাহিনী ভাইরাল হয়।

পুলিস সূত্রে খবর, মামুনের দাবি, সহকারি অধ্যাপিকা হিসেবে খায়রুন নাহার ৩৫ হাজার টাকা বেতন হিসেবে পেতেন। যাবতীয় খরচের পর বেঁচে যেত মাত্র আট হাজার টাকা। শনিবার খায়রুন নাহারের আগের পক্ষের ছেলে এসে সেই টাকা থেকেই পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। বাকি তিন হাজার টাকার মধ্যে বাড়িতে ছিল মাত্র এক হাজার টাকা। সেই কারণে অধ্যাপিকা আত্মহত্যা করেছেন কিনা, তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানাননি মামুন।

দুই অসমবয়সী পাত্র পাত্রীর সহাবস্থান ঘিরে আগেই সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে। অধ্যাপিকার মৃত্যুতে সেই বিষয়ে ফের সমালোচনা শুরু হয়েছে। আদতে ওই অধ্যাপিকা আত্মহত্যা করেছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

About Post Author