সময় কলকাতা ডেস্কঃ ২৪ ঘন্টা পার না হতেই পুরুলিয়ার দর্জিপাড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিচারিকা খুনের ঘটনার কিনারা করল পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত ২ কাঠ মিস্ত্রিকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য,স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকারের বাড়ি থেকে পরিচারিকা পার্বতী বাদ্যকরের দেহ উদ্ধার ঘিরে রবিবার চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরুলিয়ার দর্জিপাড়ায়। এমনকী ওই বাড়ি থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রীকেও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন দুই কাঠ মিস্ত্রি, যারা আগে একাধিকবার ওই বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে কাজে এসেছেন। সোমবার এই ঘটনা জানা মাত্রই পুলিশের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গলু ওরফে ভিকি শর্মা এবং রাকেশ রজক নামে ২ কাঠমিস্ত্রি কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনেই খুনের কথা স্বীকার করে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পরই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাকেশ এবং ভিকি দুজনেই ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পরিবারের পূর্ব পরিচিত। ভিকিই এই খুনের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড।
জানা গিয়েছে,একটি মেয়ের সঙ্গে ৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল ভিকি। বেশকিছু দিন ধরেই প্রেমিকা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল ভিকিকে। কিন্তু, তার জন্য বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন ছিল তার। আর সেই টাকা জোগাড় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল ভিকি। কিন্তু তা আর পেরে ওঠেনি সে। তাই ওই টাকা জোগাড় করতেই অসৎ উপায় অবলম্বন করে ভিকি। মাথা খাটিয়ে তৈরি করে প্ল্যান। টার্গেট করা হয় ব্যবসায়ী প্রদীপ দাস কর্মকারের বাড়িকেই। বাড়ির ছাদে যে কাঠ মজুত করা ছিল সেই কাঠ নেওয়ার অজুহাতেই রবিবার স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢোকে ভিকি ও রাকেশ। যদিও, প্রদীপ বাবু বারংবার বলেছিলেন তিনি থাকাকালীন সময়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু, ভিকি তা করেনি। এদিন প্রদীপ বাবু বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগেই বাড়িতে লুটপাট চালানোর উদ্দেশ্যে কাঠ নেওয়ার অজুহাতে দেখিয়ে অভিযুক্তরা সোজা চলে যায় প্রদীপ বাবুর বাড়ির দোতলায়। এরপর বেশ কিছুক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও তাদেরকে নামতে না দেখে প্রদীপ বাবুর স্ত্রী নন্দিতা দেবী উপরে উঠে যান। তিনি লুটপাট চালাতে দেখে ফেলায় তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ভিকি। এদিকে বেশ খানিকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরেও নন্দিতা দেবী কে না নামতে দেখে এবার দোতলায় যান বাড়ির পরিচারিকা পার্বতী বাদ্যকর। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে পার্বতী বাদ্যকরকে প্রাণে মেরে ফেলে ভিকি ও রাকেশ। এরপর তারা পালাতে গিয়ে দেখে বাড়িতে রয়েছেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বড় মেয়ে। বাড়িতে এতজন সদস্য উপস্থিত রয়েছেন, সম্ভবত তা আন্দাজই করতে পারেনি ভিকি এবং রাকেশ। তাই, অবশেষে তাদের লুটপাটের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

ইতিমধ্যেই ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার এস সেলভামুরুগন দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাসবার্তা দিয়েছেন।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী