Home » দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে মেয়ে, পাশে দাঁড়ানোর কাতর আবেদন বাবা-মার

দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে মেয়ে, পাশে দাঁড়ানোর কাতর আবেদন বাবা-মার

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারাচ্ছে মেয়ে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় হচ্ছে চিকিৎসায় গাফিলতি। অসহায় বাবা-মা। করুণ আকুতি পাশে দাঁড়ানোর।

এক চিলতে ছোট্ট ঘর, চারিদিকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কোনমতে ছেঁড়া ফাটা পলিথিন দিয়ে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়ি। বাড়ি বলা ভুল ছোট্ট কুঁড়েঘর। মাথার উপর অজস্র ফাটা পলিথিনের আচ্ছাদন। বর্ষাকালে চারিদিক দিয়ে জল পড়ে কাদায় পিচ্ছিল হয়ে যায় ঘরের মাটির মেঝে। শোয়ার জন্য খাট বলতে বাঁশের তৈরি মাচা। দুটি মাচায় রাত্রি যাপন করেন তিনজন মানুষ। তাও ওই মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু হয়েছে এক সহৃদয় মানুষের বদান্যতায়।

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের শালিম ডাঙ্গায় এই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরেই বসবাস করেন অলক মাঝি ও তার স্ত্রী ঝুমা মাঝি আর তাদের ১২ বছরের মেয়ে রিয়া মাঝি। অভাব তাদের জীবনের নিত্য সঙ্গী। আসল বাড়ি বোলো বলাগড় ছেড়ে কাজের খোঁজে চলে এসেছিলেন এই জামালপুরে। দিনমজুর অলোক মাঝির জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা অভাব। কিন্তু সেই সমস্যাকে ছাপিয়েও আরও বড় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। তার মেয়ে রিয়া মাঝি বছর দুয়েক আগে স্কুল যাওয়ার পথে সাইকেল নিয়ে পড়ে যায় খালের পাড়ে। তারপরেই দেখা দেয় চোখের সমস্যা। একটা চোখ ধীরে ধীরে ঠিকরে বেরিয়ে আসার মতন অবস্থায়। আর অন্য চোখ প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে দৃষ্টিশক্তি।

এদিকে মেয়ের চোখের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অর্থের। আর অন্যদিকে অর্থশূন্য অবস্থায় অসহায় বাবা-মা। মেয়েকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করানোর পর চিকিৎসকরা কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসা হয়নি। এরই মাঝে মানুষের কাছে কার্যত ভিক্ষা করে কিছু টাকা জোগাড় করে কলকাতা মেডিকেল কলেজে একবার মেয়ের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু আর চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই অসহায় বাবা-মার। তাই সাধারণ মানুষসহ প্রশাসনের কাছে বাবা-মার করুণ আবেদন পাশে দাঁড়ানোর।

মানুষ মানুষের জন্য, সেই সাধারণ মানুষের কাছেই অলোক মাঝির আবেদন যদি তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য কেউ পাশে দাঁড়ায়। হয়তো সামগ্রিক চেষ্টাতেই ফিরে পেতে পারে রিয়া তার দুটি চোখ। আবার সে ফিরে পেতে পারে তার জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ।

About Post Author