সময় কলকাতা ডেস্কঃ আজ অর্থাৎ রবিবার মহাসপ্তমী। এদিন, কলা বৌ স্নান করিয়ে, ঘট প্রতিস্থাপনের মধ্যে দিয়ে দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয়। সকাল থেকে তারই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা বাংলা জুড়ে। সপ্তমী পুজোতে নবপত্রিকা স্নানের একটি বিশেষ তাৎপর্য্য আছে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী নবপত্রিকা আসলে দেবী দুর্গার ৯টি রূপ। দেবীর ৯টি রূপকে একত্রে পুজো করা হয় নবপত্রিকার মাধ্যমে। ৯টি বৃক্ষ নিয়ে পুজো করা হয়। প্রতিটি গাছেই দেবী কোনও না কোনও রূপে অধিষ্ঠান করেন।
রাজাও নেই, রানিও নেই, নেই রাজ-আমলও। জমিদারির পাট চুকেছে বহুকাল। তবুও রয়ে গিয়েছে ঐতিহ্য। মালদহের চাঁচলের এমনই এক বিখ্যাত জমিদার বাড়ির পুজো কে ঘিরে রয়েছে নানান অলৌকিক ঘটনা। জমিদার বাড়ি আর দুর্গাপুজোর মধ্যে যে সুক্ষ সুতো,তা আজও রয়ে গিয়েছে। চাঁচল শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলিগ্রামের কাছারিপাড়া বসত ছিল রায় চৌধুরী পরিবারের। জানা গিয়েছে, নবাব আলীবর্দী খাঁ-র আমল থেকে হয়ে আসছে এই জমিদার বাড়ির পুজো। বর্তমানে এই পুজো ৩৫০ বছরে পা দিল।

চৌধুরী পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,প্রায় কয়েকশো বছর আগে এই এলাকায় রাজত্ব করতেন নবাব আলীবর্দি খাঁ। বদলরাম রায়চৌধুরী নামে নবাবের এক বিশ্বস্ত নায়েব ছিলেন। একবার প্রচন্ড খড়ার সময় নবাবের কর আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বদলরাম রায় চৌধুরী। আর সেই অপরাধে নবাব আলীবর্দি খাঁ সাজা দেন বদলরাম চৌধুরীকে। তার সমস্ত শরীরে সহস্র চাবুক মেরে বাক্সবন্দী করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মহানন্দার জলে। এরপর নদীর পারে থাকা এক সন্ন্যাসী সেই বাক্স দেখতে পেয়ে আধমরা অবস্থায় উদ্ধার করে বদলরাম রায় চৌধুরীকে। তিনি যথাসাধ্য সেবা শুশ্রুসা করে সুস্থ করে তোলেন বদলরামকে। সেই সন্ন্যাসীর আশ্রমে থাকাকালীনই একদিন দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান বদলরাম রায় চৌধুরী। দেবী তাকে আদেশ দেন নবাব আলীবর্দী খাঁর সম্মুখীন হতে এবং তাকে যে পরগনা দান করা হবে সেই পরগনায় দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে। এরপর বদলরাম রায়চৌধুরী সুস্থ হওয়ার পর একদিন হঠাৎ নবাব আলীবর্দী খাঁর সামনে গিয়ে হাজির হন। বদলরাম রায়চৌধুরী কে জীবিত অবস্থায় দেখে তো চক্ষু চরক গাছ হয়ে যায় নবাবের।
তবে গোটা ঘটনা জানার পরই নবাব আলীবর্দী খাঁ বদলরাম রায় চৌধুরীকে পাঁচটি পরগনা দান করেন। সেই পাঁচটি পরগনার মধ্যে একটি পরগনা ছিল কলিগ্রাম পরগনা। আর সেখানেই কাছারিপাড়ায় দেবী দুর্গা কে প্রতিষ্ঠা করেন বদলরাম রায় চৌধুরী। সেই পুরানো রীতি মেনে আজও বদলরাম রায়চৌধুরীর পুজো হয়ে আসছে। প্রতিপদের দিন থেকে শুরু হয়ে যায় দেবীর ঘট পুজো। দেবীকে এখানে এক চালায় ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। যদিও আগে এই পুজোয় পাঠাবলি প্রচলন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রীতি আর নেই। তার পরিবর্তে চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা মোহন ভোগের আয়োজন করেন। অষ্টমীর দিন কুমারী পুজোর রীতি থাকলেও এখানে নবমীর দিন কুমারী পুজো হয়। আর দশমীর দিন সকালে গোটা রায় চৌধুরী পরিবার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। এরপর গোধূলি লগ্নে কলিগ্রামের রাণী দীঘিতে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও