Home » ফের ডেঙ্গিতে মৃত্যু দক্ষিণ দমদমে

ফের ডেঙ্গিতে মৃত্যু দক্ষিণ দমদমে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। ফের ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকার আরও ১ জনের। গত ১৩ অক্টোবর জ্বর নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এমএম ঘোষ রোডের বহুতল আবাসনের বাসিন্দা মহুয়া রায় । এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাঁকে আইসিইউয়ে রাখা হয়েছিল । কিন্তু শেষরক্ষা আর হলনা। শনিবার রাত ১২টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকাজুড়ে।
শনিবার মুখ্য সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী সমস্ত জেলার জেলাশাসক, মুখ্যত স্বাস্থ্য। আধিকারিক, মেডিক্যা ল কলেজের সুপারদের সঙ্গে এক ভারচুয়াল বৈঠক করেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধের পাশাপাশি, আরও বেশি করে রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যয় সরকার। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, কলকাতা, হুগলি, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় কেন ডেঙ্গি বাড়ছে? এদিনের এই বৈঠকে সেবিষয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যসচিব। উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে উদ্বেগজনক। প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে বলেই জানান মুখ্যসচিব। ডেঙ্গি প্রতিরোধে সাফাই অভিযান কতটা হচ্ছে? ঠিকমতো মানুষের কাছে প্রচার করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রতিটি ওয়ার্ডস্তরে মাইক্রো প্ল্যান করার নির্দেশও দেন তিনি।


গত এক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডেঙ্গি আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। তার মধ্যে বিধাননগর পুর এলাকাতেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। অন্যদিকে দক্ষিণ দমদমে এই মুহূর্তে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৭। দৈনিক গড়ে ১২-১৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই পুরসভা সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় বিধাননগর ও দক্ষিণ দমদম পুরনিগমকে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৩। যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২০। যদিও বিধাননগরের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিধাননগরের অধিকাংশ ব্লকের পার্কেরই বেহাল অবস্থা। পার্কের মধ্যে জল জমে রয়েছে। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি পার্কের ফোয়ারাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় কারণে সেখানে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে।
স্বাস্থ্য ভবনের তরফে ইতিমধ্যেই ফাঁকা জমি ও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অবস্থায় থাকা বাড়িগুলিতে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিধাননগর পুরনিগমের তিনটি হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফের একবার স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা ড্রোন উড়িয়ে খালগুলিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও কালীপুজো প্যান্ডেলগুলির উপরেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। সূত্রের খবর,কলকাতায় এখনও পর্যন্ত বন্ধ অবস্থায় থাকা ১৮০টি বাড়িতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ঢুকে পুরকর্মীরা সাফাই করেছেন।

About Post Author