Home » শ্রদ্ধাকাণ্ডের ছায়া এবার বাংলাদেশে ! তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

শ্রদ্ধাকাণ্ডের ছায়া এবার বাংলাদেশে ! তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ শ্রদ্ধাকাণ্ডের ছায়া এবার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। শ্রদ্ধা ওয়াকার নামক তরুণীকে খুন করে ৩৮ টুকরোয় কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর  লিভ-ইন পার্টনার আফতাব পুনাওয়ালার বিরুদ্ধে। ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়েছে। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এবার সেই ঘটনার ছায়া প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। সূত্রের খবর, কবিতা রানী নামক এক তরুণীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিক আবু বকরের বিরুদ্ধে। আর আবু বকরকে এই কাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে তাঁর লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন আর্মি ইতিমধ্যে সেই যুবককে গ্রেফতার করেছে।

সূত্রের খবর , আবু বকর একটি পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।  গত ৬ নভেম্বর আবু বকর কাজে যায়নি।  সংস্থার পক্ষ থেকে আবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সংস্থার মালিক আবুর ভাড়া বাড়িতে তাঁরই এক সহকর্মীকে পাঠান। বাড়ি বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। আবু বকরের আচমকা গায়েব হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ তৈরী হয়। এরপর বাড়ির মালিক পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের।  ঘরের  ভিতর থেকে একটি  বাক্স ও এক মহিলার মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পলিথিনে মোড়া মহিলার মাথা অন্য জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন  মৃত মহিলার নাম কবিতা রানী।  গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

৭ নভেম্বর পুলিশ আবু বকরকে গ্রেফতার করে। আবু বকরের সঙ্গে গ্রেফতর হয় তাঁর লিভ-ইন-পার্টনার স্বপ্না। বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন সূত্রে খবর, যে আবু বকর ও স্বপ্না গত চার বছর ধরে গোবরচাকা স্কোয়ার এলাকায় একসঙ্গে থাকত। সম্প্রতি আবু কবিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে এবং দেখা হওয়ার কিছু দিন পর সে কবিতাকে খুন করে। শুধু খুনই নয়।  মৃতদেহের ৩৫ টুকরো করে নানা স্থানে ফেলে আসেন। এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই রাজধানীতে স্বপ্না ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবু বকর কবিতাকে তাঁর ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপরই  আবু ও কবিতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদ শুরু হয়।  বিবাদ এতটাই চরমে পৌঁছয় যে রাগের বশে আবু শ্বাসরোধ করে কবিতাকে  খুন করে। অভিযুক্ত আবু কবিতার দেহ থেকে ধড় আলাদা করে। এরপর হাত কেটে দেওয়ার পর তা নর্দমায় ফেলে দেয়। মাথাটাকে পলিথিন ব্যাগে ভরে দেয় এবং বাকি দেহটিকে বাক্সে ভরে রাখে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আবু বকরের খোঁজে পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় র‌্যাব।  ৬ নভেম্বর রাতে অভিযুক্ত কোথায় ছিল তা খোঁজ করতে শুরু করে তারা। অবশেষে গাজিপুর জেলার বসন পুলিশ থানার অর্ন্তগত চৌরাস্তা মোড় থেকে পুলিশ আবু ও স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে। পুলিশি জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।

About Post Author