Home » প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবাধে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য

প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবাধে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য

সময় কলকাতা ডেস্কঃ পাখির চোখ পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারই মধ্যে প্রশাসনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে চলছে মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। সরকারি নিয়ম না মেনেই অবৈধ ভাবে মাটি কেটে বিহারে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের তুলসীহাটা এলাকায়। আর সেই মাটি রাতারাতি চলে যাচ্ছে বিহারে। অভিযোগ, শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের মদতেই হচ্ছে এই কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ এই ভাবে মাটি কাটার ফলে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

কিছু দিন আগেই অবৈধ ভাবে মাটি কাটা নিয়ে সরগরম হয়েছিল মালদহ জেলার রাজনীতি। রতুয়া এলাকাতে নদী তীরবর্তী অঞ্চল থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই নিয়ে সরব হন খোদ রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখার্জি। অবৈধ ভাবে মাটি কাটা রুখতে বিধায়ক নিজে সেখানে গিয়ে পাহারা দেন। তারপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনও এই নিয়ে কঠোর বার্তা দেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে মাটি কাটা চলছে হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটা এলাকায়। অভিযোগ প্রশাসনিক অনুমতি না নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে সেখানে। তারপর সেই মাটি পাচার করে দেওয়া হচ্ছে বিহারে। বিহারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সেই মাটি। প্রশ্ন উঠছে এই ঘটনা কি ভাবে প্রশাসনের নাখের ডগায় দিনের আলোতে হচ্ছে? কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না ভূমি সংস্কার দপ্তর? শাসকদলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকার ফলেই কী নীরব প্রশাসন? স্থানীয় সূত্রেও এমনটাই দাবি করা হচ্ছে।

এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি নিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তাঘাট নোংরা হচ্ছে। তাদের যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের মদত ছাড়া কি ভাবে বিহারে মাটি চলে যাচ্ছে। এলাকায় ইট ভাটা বা অন্যান্য যাদের অনুমতি নেওয়া আছে তারা মাটি পাচ্ছে না। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি নিয়ম মেনেই মাটি কাটা হচ্ছে। নিয়ম না মানলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

এ প্রসঙ্গে মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জম্মু রহমান বলেন, ‘ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নিয়ম মেনে কাটা হয়। তারপরও যদি কেউ অনুমতি না নেয় প্রশাসন পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে এর কোন যোগ নেই। সংবাদ মাধ্যম সব কিছুতে তৃণমূলকে জড়িয়ে দিচ্ছে।’

অন্যদিকে এ বিষয়ে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য কিষান কেডিয়া বলেন, ‘শাসকদল এবং প্রশাসনের মদত ছাড়া এটা সম্ভব না। নিয়ম না মেনেই মাটি কাটছে। এরা জেলার নির্দেশ মানছে না। সামনে পঞ্চায়েত ভোট তাই কাটমানি খাওয়ার চেষ্টা করছে শাসকদল।’

About Post Author