Home » লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই চিরতরে বিদায় নিলেন শাঁওলি মিত্র

লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই চিরতরে বিদায় নিলেন শাঁওলি মিত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক:লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই চিরদিনের জন্য অন্তরালে চলে গেলেন শাঁওলি মিত্র।”পুতুল খেলা”অভিনেত্রীর জীবন খেলা সাঙ্গ হলে এদিন। 2022 সালের প্রথম নক্ষত্র পতন।রবিবারের শিশির-ঝরা ভোরের সকালে নিঃশব্দে চলে গেলেন শাঁওলি মিত্র।

পরিবার সূত্রে খবর বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নাট্যজগতে তাঁর অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শম্ভু মিত্র- তৃপ্তি মিত্রের কন্যা শাঁওলি মিত্র। বরাবরই প্রচারবিমুখ শাঁওলি মিত্র মৃত্যুর আগে জানিয়ে গিয়েছিলেন তার শেষ ইচ্ছা। দাহ কার্যের পরেই যেন তাঁর মৃত্যুর খবর সর্বসমক্ষে আনা হয়। তাঁর পিতা শম্ভু মিত্র ও মৃত্যুর আগে এমনই শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। শোকের আতিশয্যের বোঝা আর ফুলের সাজে যেন সেজে না ওঠে তাঁর নশ্বর দেহ এমনই মৃত্যুর আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। শাঁওলি মিত্রের শেষ ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়ে এদিন কিরিটি মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হল। তার একাধিক নাট্য কর্মের মধ্যে অন্যতম ছিল “নাথবতি অনাথবত”এছাড়াও হ-য-ব-র-ল ,একটি রাজনৈতিক হত্যা, লঙ্কা দহন, চন্ডালি ,পাগলা ঘোড়া, পাখি, গ্যালিলিওর জীবন ,ডাকঘর নাটক বহু মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মানিত হয়েছিলেন। 2003 বাংলা থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন। 2012 সালে অভিনয়ে জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি। শুধু নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবেই তার পরিচিত ছিল না, সমাজের অবক্ষয়, বিভিন্ন সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তিনি অংশগ্রহণ করতেন নিয়মিত। একাধিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। শাঁওলি মিত্র মানে নাটকের মাধ্যমে সমাজের চিত্র ফুটে ওঠা, শাঁওলি মিত্র মানে প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা, শাঁওলি মিত্র মানে ক্ষয়িষ্ণু সমাজের মাঝে আলোর বিন্দুর প্রতিমূর্তি।

About Post Author