সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারি: বর্তমান সময়ে আমাদের যেমন মোবাইল ছাড়া এক বিন্দু চলাফেরা করা সম্ভব না, তেমনই মোবাইল চলে না অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া। বর্তমানে মোবাইল ফোনে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম (OS) হল গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড’ (Android)। পাশাপাশি অ্যাপেল (Apple) ফোনের ক্ষেত্রে IOS অপারেটিং সিস্টেম। এই দুই অপারেটিং সিস্টেম গোটা দূনিয়ার মোবাইল ফোনকে পরিচালনা করে আসছে। এবার হয়তো সেই যুগ যেতে বসেছে। কারণ খুব জলদি মোবাইল দূনিয়ায় ঝড় আনতে চলেছে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির অপারেটিং সিস্টেম ‘ভারস’ বা ‘BharOS’। এটির উদ্ভাবক মাদ্রাস আইআইটি। ভারত সরকারের যৌথ সহায়তায় নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করেছে মাদ্রাস আইআইটি। মূলত অতিরিক্ত গুগল নির্ভরতা কমাতে এবং দেশীয় প্রযুক্তির প্রসারেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।

‘BharOS’, ভারতের প্রথম চারটি অক্ষর এবং অপারেটিং সিস্টেমের সংক্ষেপিত রূপ নিয়ে এই নতুন অ্যাপ্লিকেশনের নামকরণ হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নতুন এই অপারেটিং সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে দেখেন। জানা যাচ্ছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অপারেটিং সিস্টেম বাজার চলতি অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস-এর থেকে অনেকটাই আলাদা। মাদ্রাস আইআইটি- সহায়তায় এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে জ্যানডিকে অপারেশন নামে এক স্টার্টআপ সংস্থা।
‘BharOS’ অপারেটিং সিস্টেমের বিশেষত্ব কী?
সাধারণত, অ্যান্ড্রয়েড চালিত ফোনে সব ধরণের অ্যাপ বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই কোনও কোনও অ্যাপ ডাউনলোডে নিষেধাজ্ঞা থাকে। আবার প্লে স্টোরেও সব রকমের অ্যাপ পাওয়া যায় না। আবার মোবাইল কেনার সময় গুগলের একগুচ্ছ অ্যাপ প্রি-ইন্সটল করা থাকে। যা আপনি না চাইলেও ব্যবহার করতে হয়। অ্যাপেলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে আরও কড়াকড়ি। কিন্তু ‘BharOS’ অপারেটিং সিস্টেমে এই অসুবিধা থাকবে না। যেমন ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন সমস্ত রকম অ্যাপ। যখন যা ইচ্ছা অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে বলে জানা যাচ্ছে। আবার দেশীয় প্রযুক্তির এই অপারেটিং সিস্টেমে প্রি-ইন্সটল কোনও অ্যাপ থাকবে না। এনডিএ বা নো ডিফল্ট অ্যাপ সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে BharOS-এ।

ভারতের নিজস্ব ‘BharOS’ অপারেটিং সিস্টেম আপাতত ব্যবহার করতে চাইলে এপিকে (APK File) ফাইল ডাউনলোড করতে হবে ইন্টারনেট থেকে। যদিও গুগল কোনও ধরণের এপিকে ফাইল ডাউনলোড করতে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাবধান করে থাকে। ‘BharOS’ আর অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের কাজকর্ম একেবারেই উনিশ-বিশ। তবে ভারসে ব্যবহার করা হয়েছে লিনাক্স কার্নেল। এটি ডাউনলোড করলে ফোনে আর কোনও অ্যাপই থাকবে না। এক্ষেত্রে প্লে স্টোরের পরিবর্তে প্রাইভেট অ্যাপ স্টোর বা (PAS) থেকে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ‘BharOS’ পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে ঠিকই, তবে কবে থেকে বাজারে আসবে তা এখনও ঠিক হয়নি।


More Stories
ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
জামাইকার বিরুদ্ধে লড়াই করে হারল ভারত