Home » থেমে গেল সুরেলা সফর,প্রয়াত বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী

থেমে গেল সুরেলা সফর,প্রয়াত বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারি: প্রয়াত বাঁকুড়ার বিখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শনিবার সকাল ১১ টা ৫৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে  পরিবার সহ গোটা সংগীত জগতে।  তাঁর মেয়ে অর্পিতা চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে বাবার মৃত্য সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। এদিন কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,বেশকিছু মাস ধরেই লিভার সিরোসিসের সমস্যায় ভুগছিলেন সুভাষ বাবু। ক্যানসারের একদম শেষ পর্যায়ে ছিলেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন তিনি।  তবে শেষ রক্ষা হল না। তাঁর প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার সুভাষ চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমি গভীর শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুভাষবাবু ঐতিহ্যময় লোকসঙ্গীতকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি ওঁর পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বাঁকুড়ার টুসু,ভাদু,ঝুমুরকে ভালোবেসে সংগীত জগতে পা রেখেছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী। আর তাতেই এসেছিল আকাশছোঁয়া সাফল্য। তাঁর সুরেলা কণ্ঠের অজস্র গান ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বাংলায়। লোকসংগীতকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তাঁর সৃষ্ট কিছু লোকগান চিরকাল বাঙালির কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুভাষ বাবু বলতেন,’শাল মহুয়ার গন্ধ না পেলে ঝুমুর গান গাওয়া যায় না।  লোকসঙ্গীত শিকড়ের গান। শিকড়কে বাদ গিয়ে হাঁটা যায় না। একটা বৃক্ষ যেমন শিকড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। গোটা সংস্কৃতিটাই লোকসঙ্গীতের উপর দাঁড়িয়ে। ঝুমুর, ভাদু, টুুসু আমার রক্তে মিশে রয়েছে।’

About Post Author