সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ ফেব্রুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তাপস মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার তাপসের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে কড়া নির্দেশ দিল ইডি। জানা গিয়েছে,ব্যাঙ্কগুলিতে তাপসের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট, কলেজ সংগঠন এবং সংস্থার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোমবার এই সমস্ত অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করার জন্য ইতিমধ্যেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সব অ্যাকাউন্টগুলিতে কয়েক কোটি টাকা রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলির স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকরা। পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ আয়ের উৎস সম্পর্কে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি সূত্রে খবর, এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই মানিক ভট্টাচার্যের ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে লেনদেন চালাতেন তাপস।

অন্যদিকে,গত ২৫ জানুয়ারি মানিক ভট্টাচার্যকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট। সেই জরিমানা না দেওয়ার কারণে সোমবার মানিকের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য ইতিমধ্যেই ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এদিকে,বুধবার প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী এবং পুত্রকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। এদিন তাঁদের জামিনের আর্জিও জানান আইনজীবী। শেষ পর্যন্ত বিচারক মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী এবং ছেলের জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন। ফলে আদালতেই গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। সূত্রের খবর,আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শৌভিক ভট্টাচার্যকে পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্সি জেলে। অন্যদিকে,আলিপুর মহিলা সংশোধানাগারে পাঠানো হয়েছে শতরূপা ভট্টাচার্যকে।

প্রসঙ্গত,নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বারাসাতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এরপরই বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।


More Stories
ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন
ডিমথেরাপি ও জনরোষ ধূপগুড়িতে,অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে রক্ষা করতে পুলিশ জনতা খণ্ডযুদ্ধ
“মাথা উঁচু করে রাজনীতি “- মুখ্যমন্ত্রী সকাশে মমতাপন্থী বিধায়করা