Home » বীরভূমে ফের অনুব্রতই! পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্বে কোর কমিটি

বীরভূমে ফের অনুব্রতই! পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্বে কোর কমিটি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মার্চ: বীরভূমে তৃণমূল জেলা সভাপতি কী জেলবন্দী অনুব্রত মণ্ডলই থাকবেন? নাকি অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেবেন তৃণমূলনেত্রী? রাজ্য রাজনীতিতে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল কয়েকদিন ধরেই। শুক্রবার তৃণমূলনেত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করেন বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বদের সঙ্গে। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুব্রত মণ্ডলের বিকল্প কাউকে বাছতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। কিন্তু আদতে তা হল না। বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি হিসেবে নতুন কোনও নাম ঘোষণা হল না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে তৃণমূলনেত্রী ভরসা রাখলেন জেলবন্দী কেষ্ট মণ্ডলের ওপরই। প্রসঙ্গত, গরু ও কয়লা পাচার মামলায় এক বছর ধরে জেলে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। বর্তমানে তাঁর ঠিকানা তিহাড় জেল।

বীরভূমের সংগঠন নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কোর কমিটি তৈরি করে দিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, বহাল থাকবে ওই কোর কমিটি। সেই সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী বীরভূমে বাড়তি দায়িত্ব দিলেন, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। পাশাপাশি মলয় ঘটক, নরেন্দ্র চক্রবর্তী বীরভূমের দায়িত্ব পাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী নেতাদের কিছু দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠন পরিচালনা করবেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ওই বৈঠকে তৃণমূলের প্রায় ২০০ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার পর তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলের বেলায় ঠিক উল্টো হল।

আরও পড়ুন  রাহুল গান্ধীর সংসদ পদ খারিজ, সঙ্গে ৬ বছর ভোটে লড়ায় নিষেধাজ্ঞা

গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলনেত্রী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে দলীয় সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে”।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্ব বীরভূম বরাবর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। এমনকি অনুব্রত এক বছর ধরে জেলবন্দী থাকার পরও বিজেপি বা বামফ্রন্ট ওই জেলায় সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে অনুব্রত বাংলা থেকে অনেক দূরে তিহাড় জেলে রয়েছেন। ফলে এবার তাঁর সংগঠন পরিচালনা করা অনেকটাই কঠিন হবে। স্বাভাবিকভাবেই কেষ্ট না থাকায় বীরভূমে নিজেদের সংগঠন ধারে ভারে বাড়াতে চাইছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে শাসকদলের কাছে আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট খুবই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তৃণমূলনেত্রী নিজেই বীরভূমের রাশ নিজের হাতে রেখে ফিরহাদ, মলয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

About Post Author