সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মার্চ: রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শুক্রবার লোকসভা সচিবালয়ের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ খবর জানানো হল। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল ‘মোদি’ পদবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। যা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় সুরাটের আদালতে। বৃহস্পতিবারই ওই মামলায় রাহুল গান্ধীকে ২ বছরের সাজা শোনান বিচারক। আর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ করে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। যা নিয়ে তোলপাড় দেশ। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলো একযোগে এর নিন্দা করছে।
আরও পড়ুন ‘মোদি’ পদবী নিয়ে মন্তব্যে বিপাকে রাহুল গান্ধী, ২ বছরের জেল কংগ্রেস সাংসদের

লোকসভা সচিবালয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১০২(১)-ই অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫১)-র ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ করা হল। ওই আইন বলছে, সাংসদ পদ খারিজ হওয়া রাহুল অন্তত আগামী ৬ বছর কোনও ভোটে লড়তে পারবেন না। যদিও কংগ্রেস এই ঘটনা নিয়ে মোদি সরকারকে নিশানা করে ব্যাখ্যা করেছে, “ক্ষমতার অপপ্রয়োগ”। জাতীয় কংগ্রেসের নেতা তথা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করা নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস। তিনি এদিন দিল্লিতে ১২টি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দাবি করেন, আঞ্চলিক দোলগুলিও কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে। বৈঠকের পর সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান তাঁরা।

প্রসঙ্গত, সুরাত জেলা আদালতের বিচারক যদিও রাহুল গান্ধীকে ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিনে দিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তাঁর সাজা ঘোষণার ওপর কোনও স্থগিতদেশ দেননি বিচারক। আর এটাই রাহুলের সাংসদ পদ বাঁচানোর পথে অন্তরায় হয়ে উঠল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ও রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের পথ প্রশস্ত করেছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাংসদ-বিধায়কের দু’বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হলে তৎক্ষণাৎ সাংসদ বা বিধায়ক পদ চলে যাবে। যদিও আগে এই নিয়ম ছিল না। আগে কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দোষী সাব্যস্ত হলে তাতে স্থগিতাদেশ পাওয়ার জন্য তিন মাস সময় পেতেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ওই ধারা নাকচ করে দিয়েছিল। ফলে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হওয়া ছিল কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। যদিও এই রায় এত দ্রুত কার্যকর করা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


More Stories
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি অধীরের
সাদা ইনফ্লুয়েন্সার, কালো ইনফ্লুয়েন্সার, খবরের নিরপেক্ষতা এবং পেইড প্রমোশন!
বিরোধীরা কিছুই করতে পারবে না বললেন দিলীপ