Home » ‘স্বাধীনতার তখন আর এখন’,পার্থক্য দেখিয়ে টুইট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

‘স্বাধীনতার তখন আর এখন’,পার্থক্য দেখিয়ে টুইট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ মেঃ নয়া সংসদ ভবন উদ্বোধন থেকে দলকে দূরে রেখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ফের সেই অনুষ্ঠান নিয়ে টুইটে নিজের বিরোধিতা প্রকাশ করলেন তিনি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী দু’টি ছবি পোস্ট করেছেন। যার একটিতে রয়েছে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরেই পুরনো সংসদ ভবনে একটি অনুষ্ঠানের ছবি, এবং দ্বিতীয়টি রবিবার মোদির দ্বারা নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধনের ছবি। প্রথম ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে তাঁর মন্ত্রিসভা। সেখানে দ্বিতীয় ছবিটিতে জনাকয়েক মন্ত্রী ও একদল সাধু-সন্তর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে লেখা রয়েছে, ‘স্বাধীনতার তখন আর এখন’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ছবিটিই পোস্ট করেছেন। এর সঙ্গে কোনও মন্তব্য দেননি। তবে নেহরুর ছবিতেই লেখা রয়েছে ‘স্বাধীনতার পরে’ এবং মোদির ছবিতে লেখা রয়েছে ‘এবং এখন’।

প্রসঙ্গত,বহু বিতর্কের মাঝেই রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে রবিবার নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন হয়। এদিকে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদে বয়কটের ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। তবে তারই মাঝে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাশে নিয়ে, ভারতীয় রীতি ও ঐতিহ্য মেনে, নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংসদ চত্বরে প্রধানমন্ত্রী পৌছতেই শুরু হয় যজ্ঞ ও পুজো। বিশেষ পুজোয় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পুজো শেষে ‘সেঙ্গোল’কে প্রণাম করেন নরেন্দ্র মোদি। পরে লোকসভার স্পিকারের আসনের পাশে সেই ‘সেঙ্গোল’ প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। এতদিন প্রয়াগরাজের জাদুঘরে রাখা ছিল একটি সোনার রাজদণ্ড।

উল্লেখ্য, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতা যাবেন না বলেছিলেন। এমনকী নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছিল, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী।

আরও পড়ুন  অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে, শান্তি ফেরাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে দারস্থ কংগ্রেস

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলেই মত বিরোধীদের। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছিল, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।

About Post Author