সময় কলকাতা ডেস্ক,১৭ জুলাইঃ জল্পনার অবসান! মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় হাইভোল্টেজ বৈঠকে যোগ দিচ্ছে আম আদমি পার্টি। রবিবার বিকালেই আপ নেতা রাঘব চাড্ডা ঘোষণা করেছেন, দলীয় প্রধান তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নৈশ ভোজ এবং বৈঠকে অংশ নেবে। বিরোধীদের পাটনা বৈঠকের আগেই আপ বিজেপি বিরোধী সব দলকেই সংসদে অর্ডিন্যান্সের বিরোধিতার জন্য রাজি করায়। কিন্তু কংগ্রেসের দিল্লি ও পাঞ্জাবের নেতারা কোনোভাবেই আপের দাবি মানতে রাজি ছিলেন না। কারণ, ওই দুই রাজ্যে আপই কংগ্রেসের মূল প্রতিপক্ষ। এদিকে, কংগ্রেসের উপর চাপ তৈরি করতে আপ পাটনার বৈঠকে অংশ নিলেও যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে দলের কেউ ছিলেন না। পরে আপ জানিয়ে দেয় কংগ্রেস সমর্থমনের কথা না জানালে তারা বেঙ্গুলুরুর বৈঠকে অংশ নেবে না। কংগ্রেস অবশেষে জানিয়েছে তারা সংসদের দুই কক্ষেই অর্ডিন্যান্সের বিরোধিতা করবে।

প্রসঙ্গত,মারাঠা স্ট্রংম্যানের পওয়ার শিবিরে ভাঙন ধরতেই বেঙ্গালুরুর বিরোধী বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বেঙ্গালুরুর বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তড়িঘড়ি বৈঠকের দিন ঘোষণা করেন কেসি বেনুগোপাল। বৈঠক করে বেনুগোপাল বলেন, বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠক হবে ১৭ ও ১৮ জুলাই। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাটনার বৈঠকে হাজির সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কংগ্রেসকে রজি করানো যাচ্ছিল না। এদিকে, শরদের শিবিরে ভাঙন ধরায় জাতীয় স্তরে হঠাৎই কোণঠাসা এনসিপি। বিরোধী জোটের মুখ হিসেবে অনেকটাই প্রকট হয়ে উঠছে রাহুল গান্ধির মুখ। এমনকী উঠে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। এহেন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার নেতৃত্বে রাহুল গান্ধি বড় ভূমিকা গ্রহণ করলে লাভ কংগ্রেসেরই। সেই কারণেই এনসিপি শিবিরের ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই বৈঠকের পক্ষে হাত শিবির।
আরও পড়ুন মহারাষ্ট্রে মহানাটক! শরদের সঙ্গে দেখা করলেন ভাইপো অজিত পওয়ার

আগামী ২০ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। ১১ আগস্ট শেষ হবে। শোনা গিয়েছিল, তারপরই বিরোধীদের দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ স্থির হবে। সংসদের অধিবেশনে আমলাদের নিয়োগ ও বদলি নিয়ে দিল্লি সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত কেন্দ্রের অর্ডিন্যান্স পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। আর তাতে আপ নেতৃত্ব অর্থাৎ কেজরিওয়ালের দলের পাশে কোন কোন বিরোধী দল দাঁড়ায়, তা দেখে বিরোধী ঐক্যের একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে। বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের ফলপ্রকাশ ১১ জুলাই হয়ে গেছে। এরপর অন্যান্য রাজ্যেও নানা স্তরের নির্বাচন রয়েছে। তার উপর বাদল অধিবেশন শেষের পর বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা অধিবেশনও রয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী কিছুটা সময় নানা কাজে ব্যস্ত থাকবে বিরোধী দলগুলি। তাই মনে করা হয়েছিল বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় বৈঠক আগস্টের শেষভাগে হতে পারে। কিন্তু, বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় বৈঠকে আম আদমি পার্টি যোগ দেবে কিনা,তা নিয়ে দ্বিমত ছিল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিরোধী দলগুলির দ্বিতীয় বৈঠকে যোগ দিচ্ছে আম আদমি পার্টি।


More Stories
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
অভিষেকের দুয়ারে ইডি