সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ আগস্ট: শুক্রবার সাত সকালে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল গোটা বেহালাবাসী। বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল বড়িশা হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সৌরনীল সরকার। সেসময়ই বেহালা চৌরাস্তায় রাস্তা পার হতে গিয়ে একটি লরি সৌরনীল এবং তাঁর বাবাকে পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সৌরনীলের। বর্তমানে মৃত ওই পড়ুয়ার বাবা বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিগতির অভিযোগ উঠেছে। এবার প্রকাশ্যে আসল সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছ, শুক্রবার বেহালা চৌরাস্তায় কী ভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গোটা ঘতনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়ে একাধিক জায়গায় বসানো হয়েছে মুভেবল ড্রপগেট। বেহালা চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। এদিকে এই দুর্ঘটনার পরেই ট্রাফিক ব্যবস্থার গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশের উপরই চড়াও হয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। পুলিশের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনার জেরে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ঘটনার রেশ পৌঁছয় নবান্নেও। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফোন করে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদস্থ অফিসারদের থেকে গোটা ঘটনার জানতে চান।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বেহালা চৌরাস্তা মোড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় বছর সাতের পড়ুয়া সৌরনীল সরকারের। বাবার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ে স্কুলের সামনেই দুরন্ত গতিতে আসা পুরসভার একটি মাটি বোঝাই লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় সাত বছরের পড়ুয়া। এক ঘন্টা ধরে প্রশাসনিক উদাসীনতায় রাস্তায় পড়ে থাকে মৃত সৌরনীলের পিষ্ট হওয়া দেহ। আর সেখান থেকেই প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয় এলাকার সাধারণ মানুষের মনে। বড়িশা হাই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি,বাইক। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরেই পুলিশ ফাঁড়ি। একেই অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ফলে খুদে পড়ুয়ার মৃত্যু,তাছাড়াও পুলিশের আসতে অস্বাভাবিক দেরি ও মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ ধরে পড়ে থাকা – এই অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা তখন লাগামের বাইরে। প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেও বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভরত জনতাকে হটাতে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। আহত হন পুলিশ এবং আমজনতা। টিয়ার গ্যাসে তখন অসুস্থ হয়ে পড়ে বহু শিশু।
আরও পড়ুন অগ্নিগর্ভ বেহালা : দুর্ঘটনায় মৃত সৌরনীল, দায় কার?

পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ট্রাফিক সহ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন ঘটনার পর পুলিশ আসতে এত দেরী? কেন মৃতদেহ দীর্ঘক্ষন পরে রইল রাস্তায়? ঘটনার পরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। সেই অশান্তির জেরে আটক করা হয় ১৮ জনকে। যদিও ঘটনার পর থেকেই থমথমে এলাকা। এরপর এদিন রাতেই পরিস্থিতি বদলে যায় অনেকটাই। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বেহালা চৌরাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসে। শনিবার সকাল থেকেই বেহালা চৌরোস্তা মোড়ে মোতায়েন পুলিশ প্রশাসন। অন্যদিকে লালবাজার পুলিশ কমিশনারেটের তরফে লাগু করা হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা। সকাল ৮ টার পরিবর্তে ৬ টা থেকেই নো এন্ট্রি লাগু করতে হবে প্রত্যেকটি স্কুলের বাইরে। এছাড়াও সরকারি হোক বা বেসরকরি স্কুলের সামনে মোতায়েন থাকবে পুলিশ। প্রত্যেক স্কুলের সামনে একজন করে অফিসার থাকতে হবে। সেটা ওসি বা অতিরিক্ত ওসিকে থাকতেই হবে।


More Stories
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে টালা ব্রিজের ল্যাম্প পোস্টের মাথায় কসরৎ
মৌলবাদের ভ্রূকুটি পেছনে ফেলে কলকাতায় তসলিমা নাসরিন