সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ আগস্ট: আপাতত সঙ্কটমুক্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা। আগের থেকে অনেকটাই ভালো আছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে,বুদ্ধবাবুর ফুসফুসে নতুন করে আর সংক্রমণ তৈরি হয়নি। তবে রাইলস টিউবের মাধ্যমে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ রাখা হয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করার পর বুদ্ধবাবু কেমন থাকেন,তা দেখতে আরও দু’দিন তাঁকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে,সোমবার হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কিনা। ইতিমধ্যেই নতুন করে বুদ্ধবাবুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত বাইপ্যাপ সাপোর্টেই রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বাইপ্যাপের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ২ লিটার করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। প্যারামিটার ঠিক আছে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বেশিদিন হাসপাতালে রাখলেও ফের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চেস্টে সিটি স্ক্যান করানোর পর সেই রিপোর্টে জানা গিয়েছিল, বুদ্ধবাবুর ফুসফুসের দু’দিকেই সংক্রমণ রয়েছে। তবে বাঁদিকের তুলনায় ডানদিকের ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা বেশি। এমনকী গত কয়েকদিন ধরেই ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অনেকটাই কম ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর শরীরে ক্লেবশিয়েলা নামের মারণ ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ মিলেছিল। যার কারণে ফুসফুসের দু’দিকেই আক্রমণ করেছিল নিউমোনিয়া। ফুসফুসের সংক্রমণ কমাতে হাই ডোজের একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক চলছিল। জানা গিয়েছে,আইসিইউ-তে থাকলেও বুদ্ধবাবুর ঘুমের ওষুধ বন্ধ করা হয়েছিল। রাইলস টিউবে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছিল। গত ৫ দিন ধরে ফুসফুসে জমে থাকা কফ বের করতে নেবুলাইজেশন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন মেডিক্যাল বুলেটিনে স্বস্তি ,আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

প্রসঙ্গত,গত শনিবার বুদ্ধবাবুর শারীরিক অবস্থার খবর পেতেই বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাম এভিনিউয়ের বাড়িতে। মেডিক্যাল অফিসার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে পাম এভিনেউয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন ওই বেসরকারি হাসপাতালে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রক্তে অক্সিজেন বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গিয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,২০১৮ সাল থেকে বাড়িতেই একটি পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা শ্বাসপ্রশ্বাস নেন তিনি। এই অবস্থায় বুধবার থেকে নিউমোনিয়া সংক্রণে আক্রান্ত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিওপিডির সমস্যাও রয়েছে বুদ্ধবাবুর। তাই বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। শনিবার তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল অ্যান্টিবায়োটিক। এরপর অক্সিজেন মাত্রা ৭০ এ নেমে যাওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন গ্রিন করিডর করে দ্রুত গতিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু রাস্তাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে যায়।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা