সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ আগস্ট: গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে মণিপুরে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত হয়৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও এনেছে বিরোধীরা। এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মণিপুরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন মণিপুরের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মোদি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মণিপুরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। অনেক হিংসার সাক্ষী হয়েছে মণিপুর। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, মা-বোনেদের সম্মান নষ্ট হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে শান্তি ফিরে এসেছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার মণিপুরের শান্তি ফেরাতে অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। গোটা দেশ মণিপুরের পাশে রয়েছে। মণিপুরের মানুষকে এই শান্তি বজায় রাখতে হবে। তাঁরা নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি করলে চলবে না।’

প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷ মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির।
আরও পড়ুন লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

এহেন পরিস্থিতিতে মণিপুরের অশান্তির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং-এর পদত্যাগের দাবিতে বারবার সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতারা। সংসদে তাঁরা সকলেই মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন ও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মণিপুরে সরকার ভেঙে নতুন সরকার গঠন করা বা মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই। ইতিমধ্যেই সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ‘মণিপুরের এন বীরেন সিং সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। রাষ্ট্রপতি শাসন তখনই জারি করা হয়, যখন সরকার কোনরকম সহযোগিতা করে না। কিন্তু মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।’ যদিও এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ। এদিন সংসদের বাইরে তিনি বলেন, ‘মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যদি সহযোগিতা করেই থাকে, তাহলে মণিপুরে ৬০ হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছে কেন? এটাই যদি সহযোগিতা হয়ে থাকে, তাইলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত এখনই মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করা। এটা কি ধরনের সহযোগিতা, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ভুল স্বীকার করার সাহস নেই।’


More Stories
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রভাব কোথায়? বিরোধিতা কেন?
১৫ আগস্ট ইনডিপেনডেন্স ডে নয়, অর্থ গুলিয়ে ফেলে নতুন সংজ্ঞা শান্তনু ঠাকুরের
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!