Home » ভারত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর জেনারেল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক

ভারত বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর জেনারেল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক

অমিত পাল, সময় কলকাতা ,২৯ আগস্ট : ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বা উপকূল রক্ষী বাহিনী গঠিত হয়েছিল। তার ১৭ বছর আগে গঠিত হয়েছিল ভারতীয় কোস্ট গার্ড । দুদেশের  কোস্টগার্ডের কাজ ও মুল লক্ষ্য প্রায় এক। দেশের মানচিত্র খালি আলাদা। দুই দেশের উপকূল রক্ষী বাহিনী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিবিধ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে উপকূল অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিধান এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে। দমন করে উপকূল-রেখায় অপরাধ। দুই প্রতিবেশী দেশের কোস্টগার্ড ইতিমধ্যেই উপকূল বরাবর পারস্পরিক সম্পর্ক রেখে  আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার কাজ করে চলেছে যা আরও মজবুত হয়ে দেখা দিয়েছে এবছর।

এবার দুদেশের উপকূল রক্ষী বাহিনী বা কোস্টগার্ডের মধ্যে জোনাল কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ সোমবার  বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) থেকে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে ৫ম জোনাল কমান্ডার পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কিবরিয়া হক, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের পরিচালক অপারেশন্স ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ সহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর, কলকাতা এবং ভারতীয় কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

সোমবারের কনফারেন্সে দুই দেশের জোনাল কমান্ডার পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, উভয় দেশের কোস্ট গার্ড সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দুর্যোগকালীন সময়ে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় ও সার্চ এন্ড রেসকিউ কার্যক্রম জোরদার, উভয় দেশের মধ্যে সৌহার্দ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে আলোচনা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সীমানায় মানব পাচার, চোরাচালান, মাদক দ্রব্য পাচার ও অবৈধভাবে মাছ ধরা রোধে উভয় দেশের কোস্টগার্ডের করনীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এউ বৈঠক দুই দেশের জলসীমানায় অপরাধ দমন ও দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা ৷

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হতে নৌ বাহিনী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা পালন করত। এতে তার নিজেস্ব কর্মকাণ্ড ব্যাহত হত এবং কিছু আইনি সমস্যা সৃষ্টি হত। এই সমস্যা নিরসনের জন্য সরকার একটি কোস্টগার্ড গঠনের জন্য সংসদে আইন পাশ করে যা কোস্ট গার্ড এ্যাক্ট ১৯৯৪ নামে পরিচিত। আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৯৫ সালের  ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড গঠিত হয় এবং ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর থেকে নৌ বাহিনী থেকে দুটি টহলদারী জাহাজের সমন্বয়ে তার কর্মকাণ্ড শুরু করে। ২৮ বছরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অনেক সুসংহত।

এ বছর ১৩ ফেব্রুয়ারী কোস্টগার্ডের ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা কোস্ট গার্ডকে  উদ্বুদ্ধ করেছেন স্বকীয় ভঙ্গিতে । তিনি সেদিন বলতে ভোলেন নি, কোস্টগার্ড বাহিনী ‘গার্ডিয়ানস অ্যাট দ্য সী অর্থাৎ উপকূল বাহিনীর কাজ সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা । বাংলাদেশ কোস্টগার্ড  উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে প্রকৃত বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে সেদিন উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ উপকূল রক্ষী বাহিনী মানুষের বন্ধু হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এবং দুদেশের উপকূলবর্তী সীমানায় অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মিত্রদেশ ভারতকে পাশে পেয়েছে। দুদেশের কোস্টগার্ডের বৈঠক এই ভাবনার অঙ্গ।এরফলে দুদেশই সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।।

About Post Author