Home » ভারতীয় ফুটবলে নতুন ভাইরাস ‘বর্ণবিদ্বেষ’

ভারতীয় ফুটবলে নতুন ভাইরাস ‘বর্ণবিদ্বেষ’

অর্কজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, সময় কলকাতা, ১ সেপ্টেম্বরঃ   “বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্যের কোনও ঠাঁই ফুটবল মাঠে নেই।”  প্রাক্তন ফিফা সভাপতির এই কথাগুলি যে বাস্তবে পরিণত হয়নি, তার ভুরিভুরি উদাহরণ বিশ্ব ফুটবলে রয়েছে। বর্ণ, জাত, ধর্ম তুলে গালিগালাজ দর্শককূলের কাছে প্রায়শই নিজের অপ্রিয় ফুটবলারকে  আক্রমণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা সাংঘাতিক। গত কয়েক বছরে যদি ফুটবল মাঠের কথাই বলা যায় তাহলে ভারতীয় ফুটবলে বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন একাধিক ফুটবলার। কালিদু কৌলিবালি, মার্কোস র‍্যাশফোর্ড, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ডেভিড আলাবার মত একাধিক বিখ্যাত ফুটবলারকে পড়তে হয়েছে এই কুরুচিকর, অশ্লীল আক্রমণের মুখোমুখি।

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংবেদনশীলতা, সহিষ্ণুতার অভাবকে আরও একবার উন্মুক্ত করেছে। যেই প্রবণতাটা ভয়ংকর।সেই ‘বিদ্বেষ’নামক ভাইরাসে এবার সংক্রমিত ভারতীয় ফুটবল। কর্ম সূত্রে বা কলেজ সূত্রে অনেক উত্তর পূর্ব ভারতের মানুষের বাস কলকাতায়। শহরের প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যোগ্যতার সঙ্গে তাঁরা পড়াশুনা করছেন। এরকমই একদল যুবক যুবতী গিয়েছিলেন যুবভারতীতে। ইস্টবেঙ্গল বনাম নর্থইস্ট দলের ম্যাচ দেখতে, ও নিজেদের প্রিয় দল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে গলা ফাটাতে।

টানটান উত্তেজক ম্যাচে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও প্রত্যাবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। তবে ম্যাচ চলাকালীন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যে বর্বরতার নজির স্থাপন করলেন কোনও ভাষায় তা প্রকাশ করা যায়না। নর্থ ইস্ট সমর্থকদের অভিযোগ, লাল হলুদ সমর্থকদের একাংশ তাঁদের লক্ষ্য করে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছিল যে ওই যুবক যুবতীরা একটা সময় পুলিশের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। ঘটনার পর বিবৃতি দিয়ে দুই ক্লাব ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে। দুটি ক্লাবই সমর্থকদের আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বৈষম্যের কোনও স্থান আমাদের জীবনে নেই। আরও একধাপ এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে এরকম আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছে।

আরও পড়ুন  নেপালকে হারিয়ে এশিয়া কাপের অভিযান শুরু পাকিস্তানের

শুধু দুটি ক্লাব নয় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সচিব সাজি প্রভাকরণের পক্ষ থেকেও ঘটনার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। তাঁরা যে এর বিরুদ্ধে লড়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ সেকথাও অঙ্গীকার করেছে। প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তখন পাওয়া খবর অনুসারে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে বিধাননগর থানার পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন হল, মানুষের মধ্যে মানুষের প্রতি ঘৃণার এই যে প্রবণতা তৈরি হল এর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কবে? নাকি, একটা সময় যে ভারত “নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান, সকলের মাঝে দেখ মিলন মহানের” আদর্শে দীক্ষিত ছিল, আজ কি তার পদস্খলন হচ্ছে? তা ভাবার এটাই মনে হয় উপযুক্ত সময়।

About Post Author