Home » হাওড়ায় ভেঙে পড়ল হনুমান জুটমিলের ছাউনি ও পাঁচিল, আটকে একাধিক শ্রমিক

হাওড়ায় ভেঙে পড়ল হনুমান জুটমিলের ছাউনি ও পাঁচিল, আটকে একাধিক শ্রমিক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ নভেম্বরঃ শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বিধ্বংসী আগুন লাগে হাওড়ার ফোরশোর রোডের একটি প্ল্যাস্টিক কারখানা ও গুদামে। সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার হাওড়ার ঘুসুড়ির কালীতলায় ভেঙে পড়ল হনুমান জুটমিলের ছাউনি ও পাঁচিল। জুটমিলের ভেতরে ৪-৫ জন শ্রমিক আটকে রয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ওই জুটমিলে ভোর ৬টা নাগাদ সকালের শিফটের শ্রমিকরা কাজ শুরু করতেই ঘটে যায় বিপত্তি। আচমকাই ভেঙে পড়ে জুটমিলের বিল্ডিংটি। জুটমিলের পুরানো বিল্ডিংয়ের ওপরেই নতুন বিল্ডিংটি তৈরি হয়েছিল। এদিন জুটমিল আচমকা ভেঙে পড়ায় শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার আর কোনও পথ পাননি।

আরও পড়ুন   হাওড়ার ফোরশোর রোডের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থলে দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন

যদিও জুটমিল কর্তৃপক্ষকে আগে বলা সত্ত্বেও এনিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সিটি পুলিশের আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলার একটি দলও। বড় জেসিবি লাগিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। জুটমিলের ভেতরে কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। শ্রমিকদের উদ্ধার করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এদিকে, শুক্রবার ভোরেই বিধ্বংসী আগুন লাগে হাওড়ার ফোরশোর রোডের একটি প্লাস্টিক কারখানা ও গুদামে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

 

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ঘটনাস্থলে আসে দমকলের ১৫ টি ইঞ্জিন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই গুদামটিতে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিকের জিনিস মজুত করা ছিল। ফলে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে প্রথমে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন পৌঁছয়। এমনকী খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া এবং শিবপুর থানার পুলিশ। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায় দমকল আধিকারিকরা। কিন্তু, দু’ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় পড়ে আরও ৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় সাড়ে চার ঘনাত্র চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। তবে, কী থেকে এদিন কারখানায় আগুন লাগল, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ওই কারখানায় অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র ছিল কি না, থাকলে তা আদৌ কাজ করেছে কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

About Post Author