সানী রায়, সময় কলকাতা ,১২ নভেম্বর :” শ্যামা নামের লাগল আগুন/আমার দেহ-ধূপকাঠিতে।যত জ্বালি সুবাস তত/ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে॥” উত্তরের শ্যামা উমারা বঙ্গ জুড়ে আলো আনছেন, আনছেন উৎসবের সুবাস।
বঙ্গের শহরে, গ্রামে, নগরে, প্রান্তরে এখন উৎসবের সুবাস । উমার পথ ধরে আসেন শ্যামা।বারো মাসে তেরো পার্বণ বাঙালির আর এই উৎসবমুখর দিনে পুজোর সুবাস ছড়াতে বঙ্গের কন্যা -জায়া- জননীদের জুড়ি মেলা ভার।ইচ্ছেশক্তির ডানায় ভর করে তাঁদের উড়ান অসীমের দিকে। আর তাই,প্রত্যন্ত গ্রামে থেকেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা জমিয়ে ধুপগুড়ি ইচ্ছেডানা ওয়েলফেয়ারের সহযোগিতায় দীপাবলিতে সকলকে আলোকিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ধূপগুড়ির সরকারপাড়ার ১২ জন গৃহবধূ। আলোর উৎসব দীপাবলি ও কালীপুজোর সময় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে লাইট, প্রদীপ ও মোমবাতির। মোমবাতির এই বাজারকে ধরে স্ব নির্ভর হতে চাওয়া উমা লক্ষী শ্যামারা নজির গড়ছেন উত্তরবঙ্গ থেকে।
পুজোর আর বেশি দেরিও নেই। তার আগে নাওয়া খাওয়া ভুলে মোমবাতি তৈরির কাজ চালাচ্ছেন জোর কদমে। তাদের এই রংবেরঙের নানান রকমারি মোমবাতির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে গ্রামের বিভিন্ন বাজারে। শুধুমাত্র বাড়িতে থেকে রান্নাবান্না কিংবা ঘর গোছানোই নয় এ সমস্ত কাজের ফাঁকে এই মোমবাতি তৈরি করে রোজগারের আশা দেখছেন তারা।
সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইচ্ছেডানা বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে মোমবাতি তৈরীর প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। অনেকেই অবশ্য প্রথমে মোমবাতি প্রস্তুত করার কাজে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। পরের দিকে পরিবারের আয় বাড়াতেও স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই মোমবাতি তৈরির দিকে ঝোঁকেন।পরিবারের নানান কাজের ফাঁকে বাকি সদস্যদের সঙ্গে মোমবাতি তৈরি করছেন এবং একদিকে আয়ও হচ্ছে অন্যদিকে সংসারে কিছুটা দায়িত্ব নিতে পারছেন তাঁরা । পরিবারের যা আয় রয়েছে তাতে সংসার চালাতে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে অসুবিধাই হয়।এই কাজের জন্য কিছুটা সাহায্য মিলতে পারে বলে আশা রাখছেন মোমবাতি প্রস্তুতকারী সেই মহিলারা । একাধিক সমস্যা কাটিয়ে প্রথম ধাপে মোমবাতি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাড়ায় এনে কাজ করা হচ্ছে।পরে ধীরে ধীরে সমস্যা কাটিয়ে উঠে মোমবাতি তৈরির সমস্ত সামগ্রী নিয়ে বেশ বড় ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
সবমিলিয়ে অন্ধকার কাটিয়ে আলো তাঁরা আনছেন শহরে গ্রামে , আলোকিত করছেন পরিবারকেও। আমাদের শ্যামা উমারা যে আলোর দিশারী।।


More Stories
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে