Home » সাংসদ পদ খারিজের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ মহুয়া মৈত্র

সাংসদ পদ খারিজের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ মহুয়া মৈত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর: ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় ইতিমধ্যেই খারিজ হয়েছে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ। গত বৃহস্পতিবার সংসদে লোকসভায় পেশ করা হয় এথিক্স কমিটির রিপোর্ট। এথিক্স কমিটির রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। এদিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ করেন। এবার সাংসদ পদ খারিজের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অনলাইন মারফত তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। মোট ১৫ পাতার আবেদন তিনি জমা দিয়েছেন। দ্রুত তা শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, যে পদ্ধতিতে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। ১৫ পাতার রিপোর্টে মহুয়া উল্লেখ করেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে হেনস্তা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন   কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়ঙ্কর পথ দুর্ঘটনা! মৃত কমপক্ষে ৩, আহত ৬

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবারই সাংসদ পদ খোয়ানোর পর সংসদের বাইরে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহুয়া মৈত্র। বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদের পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধি। এমনকী সমাজবাদী পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টিও মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের প্রতিবাদ করেন। ওইদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘ওরা আমায় ৬ মাস ধরে হেনস্থা করবে। কিন্তু আমি প্রশ্ন করছি, আদানির ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির কী হল, যা ইডি-সিবিআই এখনও তদন্ত করে উঠতে পারল না? আমি নাকি জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছি লগ ইন আইডি শেয়ার করে। এটাই আপনাদের বিনাশের শেষ। আমি আবার ফিরে আসব।’ উল্লেখ্য, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারওকে দেওয়ার। দুবাই থেকে পাসওয়ার্ড দিয়ে সাংসদের ইমেল অ্যাকাউন্টে লগ ইন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এথিক্স কমিটির সামনে মহুয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর বলে দেওয়া প্রশ্ন অন্য অফিসের এক কর্মীকে দিয়ে তিনি টাইপ করিয়েছিলেন।

 

যতবার তিনি প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, ততবারই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে প্রশ্ন টাইপ করা হয়েছে। এরপরই এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রর ‘কঠোর শাস্তির’ সুপারিশ করছে। মহুয়ার ব্যাপারে ৫০০ পৃষ্ঠার খসড়া রিপোর্ট তৈরি করেছিল। এই রিপোর্ট তৈরির জন্য কমিটির চেয়ারম্যান বিনোদ সোনকার সংবিধান বিশেষজ্ঞদেরও সাহায্যও নিয়েছেন বলে খবর। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সংসদ থেকে অবিলম্বে মহুয়াকে বহিষ্কার করা উচিত। আর কেন্দ্রের সরকারের উচিত মহুয়ার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শেষ করা। মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল সাংবিধানিক সংস্থা লোকপাল। অর্থাৎ এথিক্স কমিটি যে সুপারিশ করতে চলেছে, তার প্রক্রিয়া এক প্রকার শুরুও হয়ে যায়। তবে, এথিক্স কমিটির খসড়া রিপোর্ট এটি। এথিক্স কমিটির বৈঠকেই এই খসড়া রিপোর্ট পেশ করা হয়। তার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই রিপোর্ট বৈঠকে পাশ করানো হয়।

About Post Author