সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ ডিসেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্যকে চিঠি দিল ইডি। ইতিমধ্যেই ইডির তরফে মনোজ মালব্যকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। রেশন বন্টন দুর্নীতিতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন আছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে নদিয়ার একাধিক থানা, কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ একাধিক থানায় রেশন দুর্নীতি নিয়ে জমা পড়েছিল নানা অভিযোগ। কিন্তু সেই অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত করা হয়নি বলে দাবি করেছে ইডি। এবার সেই অভিযোগগুলির বিস্তারিত তদন্ত করার আবেদন জানিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে চিঠি পাঠাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির বক্তব্য, পুলিশ এই তদন্ত করলে এই দুর্নীতিকে একদিকে যেমন রাশ টানা যেত, একইভাবে গোটা ঘটনাও অনেক আগে সামনে আসত। ইডি জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশ যেন রাজ্যের যেখানে যেখানে চালকল, আটাকল আছে, সেসব জায়গায় তদন্ত করে দেখে।
আরও পড়ুন রাজ্যে শুরু শীতের ব্যাটিং, জেনে নিন কেমন থাকবে আবহাওয়া
এদিকে, মঙ্গলবারই রেশন দুর্নীতি মামলায় ১৬২ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি, যাতে জ্যোতিপ্রিয়র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ রয়েছে। ইডির পেশ করা চার্জশিট থেকে জানা গিয়েছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও কন্যার নামে ৫৮টি টার্ম ডিপোজিট ছিল ব্যাঙ্কে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা জমা ছিল। ইডি সূত্রে খবর, এই গোটা টাকাই বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। তবে রেশন দুর্নীতির সঙ্গে এই টাকার যোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বালুর স্ত্রী ও মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা দু’কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৩০ কোটি টাকা গিয়েছে বাকিবুরের কাছে। শুধু তাই নয়, ইডির চার্জশিটে বাকিবুরকে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে প্রায় তিরিশ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই বাকিবুর দুর্নীতির পুরো টাকা ঘুরপথে পাঠাতেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে।
মঙ্গলবার রেশনবন্টন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করে ইডি। তাতে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রেশন ডিলার বাকিবুর রহমান ছাড়াও ১০টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাকিবুর এবং বাকি পাঁচটি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে নথিভুক্ত বলে খবর। অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডির জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ