সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ ডিসেম্বর: নতুন বছর শুরু হওয়ার আগেই ফিরেছে করোনা আতঙ্ক! ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এবার করোনাই কাড়ল দক্ষিণী তারকার প্রাণ। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেতা তথা ডিএমডিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা বিজয়কান্ত প্রয়াত অভিনেতা তথা ডিএমডিকে দলের প্রতিষ্ঠাতা বিজয়কান্ত। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দক্ষিণী তারকা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই শারীরিক অবস্থা অবনতি হচ্ছিল বিজয়কান্তের। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বিজয়কান্ত। এরপর কোভিড পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

বুধবার সকাল থেকেই প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রাজনীতিক তথা অভিনেতার। অত্যাধিক শ্বাসকষ্টের কারণে বিজয়কান্তকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক দল দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজগাম এর তরফে। চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ২৮ ডিসেম্বরে সকালেই মারা যান তিনি। অনেক চেষ্টার পরও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ২৮ ডিসেম্বরে সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে শিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজগাম দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন বিজয়কান্ত। রাজনীতির মঞ্চ ছাড়াও সিনে দুনিয়ার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন বিজয়কান্ত। ২০০৫ সালে শিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজগাম দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা বিজয়কান্তের। সকলের কাছে তিনি ‘ক্যাপ্টেন’ বলে পরিচিত ছিলেন। সিনে জগতে বহুমুখী অভিনেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বিজয়কান্ত।
আরও পড়ুন ডাম্পারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, মধ্যপ্রদেশে আগুনে ঝলসে মৃত ১৩ যাত্রী
উল্লেখ্য, ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ক্রমশ ভয় ধরাচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। সব রাজ্যের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। দেশে এখনও পর্যন্ত এই সাব ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেরল, মহারাষ্ট্র, গোয়াম এই তিন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি জেএন.১-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কোভিড পরিস্থিতির উপর নজরদারির যে গাইডলাইন রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনও অসুস্থতা বা শ্বাসজনিত কোনও অসুস্থতার উপর জেলাস্তরে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিতভাবে ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ ইনফরমেশন পোর্টালে তোলার জন্য বলা হয়েছে। জেলাস্তরে যাতে নির্দিষ্ট অনুমাতে আরটি-পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার উপর। কোনও নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য বলা হয়েছে। যাতে কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়েছে কি না, তা আগে ভাগে শনাক্ত করা যায়। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে।


More Stories
ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড যেন যৌনতার ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ