সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ জানুয়ারি: ২০২৩-এ সারা বছর কীভাবে কাটল বাংলা সিনেমা। কেমন ভাবে সাজিয়েছেন পরিচালকরা তাদের সিনেমা। বাংলা সিনেমার খুঁটি-নাটি নানা বিষয় নিয়ে ফিরে দেখছে সময় কলকাতা।

১. কবিতার মতো ‘মানবজমিন‘
মানবজমিন ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় ডেবিউ করেছেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ২০২৩-এর ৬ জানুয়ারি নন্দন, রাধা সহ কলকাতার একাধিক হলে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমা। খুব কম বাজেটের তৈরি ছবিটি অনেকেরই পছন্দ হয়েছে। আর পাঁচটা বাংলা ছবির থেকে অনেকটাই আলাদা মানবজমিন এর চিত্রনাট্য। কবিতা, গান আর অন্যরকমের প্রেমের মোড়কে সাজিয়েছিলেন পরিচালক।
২. সিনেমার মধ্যে আরেক সিনেমার গল্প
এক ভিন্ন স্বাদের প্রেমকাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে মায়াকুমারী সিনেমা। ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, অরুণিমা ঘোষ, ইন্দ্রাশীষ রায়, ফালাক রশিদ রায়। ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এই ছবি। ছবিতে নজর কেড়েছিল আবিরের লুক। বড় চুল, পুরনো দিনের ধাঁচে সাজানো হয়েছিল আবিরকে। ‘মায়াকুমারী’তে কাননকুমার-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে আবিরকে। ছবির লুকের জন্য রীতিমত আবিরকে প্রস্থেটিক মেকআপও নিতে হয়েছিল। অরিন্দম শীলের পরিচালনায় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মায়াকুমারী।
৩. এক প্রেমের গল্প
১৯৬৭-র নকশাল আন্দোলন, পরবর্তী সময় ১৯৭৫-এ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জরুরী অবস্থা ঘোষণা, সেই প্রেক্ষাপটেই ছবির শুরু, তারপর একটা অন্য গল্প ঢুকে পড়া, যার নাম ‘কাবেরী অন্তর্ধান’। ‘হাতিমারা’ জায়গা ঘিরেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের -এই ছবির গল্প। পুলিস অফিসার মৃণ্ময় ঘোষ অর্থাৎ কৌশিক সেনের মৃত্যুর তদন্তে হাতিমারা আসেন পুলিস আধিকারিক প্রীতম সিং। সঙ্গে জুড়ে যায় মৃণ্ময় ঘোষের বোন কাবেরী অর্থাৎ শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের অন্তর্ধানের তদন্তও। ঘটনা দুটি একই দিনে ঘটেছে। দীর্ঘ একবছর পরও যার কোনও কিনারা হয়নি। এরপর ধীরে ধীরে গল্পের সঙ্গে জুড়ে যায় মৃত পুলিস আধিকারিকের স্ত্রী, চিত্রশিল্পী অর্ঘকমল, নিখোঁজ কাবেরীর স্বামী। শুরু থেকে টানটান উত্তেজনা, রহস্যের গন্ধ খুঁজতে খুঁজতেই দিব্যি গল্পের শেষ।
আরও পড়ুন: সালতামামি ২০২৩, একনজরে এই দেশ : উল্লেখযোগ্য ২৩টি ঘটনা
৪. ভালবাসার সন্ধানে চার জুটি
বর্তমানে কর্মব্যস্ততা, সমাজমাধ্যমে লাইক আর কমেন্টের ভিড়। তাও যেন প্রত্যেকেই ভীষণ একা। কারও প্রিয় মানুষ ছেড়ে গিয়েছে, কেউবা জীবন-সায়াহ্নেও একজন বন্ধুর সন্ধানে। নগরসভ্যতার জাঁতাকলে আটকে এক ডেটিং অ্যাপের কেরামতিতেই মানুষগুলির কাছের জনকে খুঁজে পাওয়া। রাহুল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘দিলখুশ’ সব বয়সের দর্শকের কাছেই ভালবাসার সন্ধান এনে দিয়েছে। ডেথ সার্টিফিকেট লেখা ডাক্তার অমূল্যরতন অর্থাৎ পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাকিত্বে ভুগতে থাকা কমলিকা দেবীর সম্পর্ক। অপরাজিতা আঢ্য, সে স্বপ্ন বোনে যাত্রাশিল্পী খরাজ মুখোপাধ্যায় সঙ্গে। ব্যবসায়ী পরিবারে দম বন্ধ হয়ে আসা পুষ্পিতা আবার মুক্তি খোঁজে সাইবার ক্যাফে চালানো ঋষির কাছে। পিএইচডির ছাত্র বোধির একঘেয়ে জীবনে টাটকা বাতাস আনে সমাজমাধ্যমের জনপ্রিয় প্রভাবী তৃষা। চরিত্রগুলিকে খুব সুন্দরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন বাংলা সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রীরা।
৫. লন্ডনে বাঙালিয়ানা!
‘আরো এক পৃথিবী’ সিনেমার গল্পটা একেবারে অন্যরকমভাবে সাজিয়েছেন পরিচালক অতনু ঘোষ। তাসনিয়া ফারিন ও সাহেব ভট্টাচার্যকে নিয়ে গল্প বুনেছেন পরিচালক। প্রতীক্ষা আর অরিত্রের সদ্য বিয়ে হয়েছে। অরিত্র এনআরআই। তাই বিয়ের পরই সে দু’সপ্তাহের মধ্যে লন্ডন পাড়ি দেয়। পরে ভিসা পেয়ে লন্ডন পৌঁছয় প্রতীক্ষা। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে আর কিছুতেই যোগাযোগ করতে পারে না। অচেনা-অপরিচিতদের শহরে সে আয়েষা এবং শ্রীকান্তের মতো কিছু বন্ধু খুঁজে পায়। অনেকেই তাকে উপদেশ দেয় বাড়ি ফিরে যাওয়ার। তবে স্বামীর খোঁজ না পেলে দেশে ফিরবে না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রতীক্ষা। প্রতীক্ষা কী ভাবে খোঁজ শুরু করে, কী করে এগোয়, সেই খোঁজের মাধ্যমেই নানা রকম মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রতীক্ষার। প্রতীক্ষার গল্পও ধীরে ধীরে ফ্ল্যাশব্যাকে স্পষ্ট হয় চিত্রনাট্যে।
৬. ভালবাসার স্মৃতি
পরিচালক পরমা নেওটিয়ার প্রথম ছবি ‘মিথ্যে প্রেমের গান’। যেখন পৃথিবীতে প্রেম কমে আসছে ক্রমশ, হাত ধরার বদলে ফোন ধরা নিয়ে ভাবিত মানুষ, ভালবাসার মানুষকেও ফোনে দেখে, সেই সময় মানুষের ভিতর ঘর দেখার কথা বলেছেন পরিচালক। ছবিতে ভালবাসার ম্যাজিকাল স্পর্শ বাঙালি দর্শককে ছুঁয়ে গেছে। নিজেকে ভাল না বাসলে কি, অন্যকে তেমন আগলে রাখা যায়? এ প্রশ্ন তুলেছে ‘মিথ্যে প্রেমের গান’ ছবির চিত্রনাট্য। অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, সুদীপা বসু, সৌম্য মুখোপাধ্যায়, ইশা সাহা, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী। সবমিলিয়ে পরমা নেওটিয়ার প্রথম ছবি ভালবাসার অনেক স্মৃতি ফিরিয়ে দিল।
৭. প্রবাসী বাঙালির প্রেমের কাহিনি
এসকে মুভিস-এর ব্যানারে, অশোক ধানুকা ও হিমাংশু ধানুকার প্রযোজনায় ও অরিত্র সেনের পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছে ঘরে ফেরার গান। ১৭ মার্চ বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে লন্ডনের আনাচে-কানাচে। প্রবাসী ভারতীয় ডাক্তার ঋভুকে বিয়ে করে কলকাতা থেকে লন্ডনে পৌঁছে তোরা। লন্ডন শহরে পৌঁছেই গানপ্রেমী তোরা বুঝতে পারে ওই সংসারে সে মিসফিট। পদে পদে হেনস্তা হতেই থাকে। এই অবস্থায় রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তোরার দেখা হয় ফোক ফিউশন গানের গবেষক ইমরানের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই শ্বশুরবাড়িতে অবহেলিত তোরা মানসিক ভরসা পায় ইমরানের কাছে। কাছাকাছি আসতে বেশি সময় লাগে না। স্বামীর সংসারে পরিস্থিতি বেশি ঘোরাল হয়ে উঠলে তোরা ঘর ছেড়ে ইমরানের কাছে আশ্রয় নেয়।
৮. রহস্যে মোড়া ‘বরফি’
পরিচালক সৌভিক দের থ্রিলার ঘরানার ছবি ‘বরফি’। এম. এস. ফিল্মস অ্যান্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে মীনা শেঠি মণ্ডলের প্রযোজনায় এই ছবি মুক্তি পায়। একের পর এক খুনের খবর। শহরে একের পর এক মন্ত্রী খুন। পুলিশ, প্রশাসন, মিডিয়া, জনতা সকলেই তটস্থ। কে বা কারা খুন করছে, কী তাদের উদ্দেশ্য, কেউ জানে না। অন্যদিকে, স্কুলের প্রিন্সিপাল বরফি, তার ভাই সূর্য এবং ভাইয়ের বান্ধবী শ্যামলী, এদের মধ্যে একটা অদ্ভুত সম্পর্ক। বরফি কোনওভাবেই সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারছে না। পুলিশ খুনের তদন্তে তাঁদের আগের একজন হেভিওয়েট অফিসার, যিনি বর্তমানে শখের গোয়েন্দা মহেন্দ্র এবং তাঁর সহকারী লক্কার হাতে সমর্পণ করেছে। ছিলেন কৌশিক সেন, গুলশন পাণ্ডে, অভিজিৎ গুহ, চান্দ্রেয়ী ঘোষ, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অনামিকা সাহা, অমিত শেট্টি, পিয়ালি চক্রবর্তী, অরিত্র দত্ত বণিক।
৯. রহস্যের জট খুলেছে মরুভূমিতে
বাংলা সিনেমার মধ্যে বক্স অফিসে কামাল একেনবাবুর। পয়লা বৈশাখে মুক্তি পেয়ে রমরমিয়ে চলছে ‘দ্য একেন রুদ্ধশ্বাস রাজস্থান’। প্রয়াত সুজন দাশগুপ্তর সৃষ্ট চরিত্র একেনবাবু। এবার সেই একেনবাবু অর্থাৎ একেন্দ্র সেন রাজস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে। সেখানে অদ্ভুতভাবে রাজস্থানি ভাষা বলার চেষ্টা করেছেন। এর পাশাপাশি আবার মূর্তি রহস্যেরও সমাধান করেছেন। পয়লা বৈশাখের অবসরে হালকা মেজাজের এই গোয়েন্দা গল্প বেশ পছন্দ হয়েছে দর্শকদের।
১০. সংশয় আর তৃষ্ণার গল্প
সবসময়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করে যান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক অতনু ঘোষের হাত ধরে অভিনেতা নতুন চরিত্র নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন ‘শেষ পাতা’ সিনেমায়। ৫৮ বছর বয়সী এক মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ। যার মাথায় পাকা চুল। চোখে রয়েছে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা, চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রুগ্নতার ছাপ। মুখভর্তি কাঁচা-পাকা দাঁড়ি,গালের এক অংশে কালো দাগ,চোখের নীচে কালি। প্রসেনজিৎ ছাড়াও অন্য় অভিনয় করেছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও গার্গী রায়চৌধুরী। বাল্মিকী সেনগুপ্তের স্ত্রীর অস্বাভাবিক মুত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বই লেখার কথা থাকলেও লিখতে পারেনি। অগ্রিম টাকা নিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় বাল্মিকী। চাপের মুখে পরে গিয়ে লেখক নিজের সহকারী মেধাকে গল্পটি শোনান সাদা পাতায় লেখার জন্য। এই গল্প লেখার মাঝেই ঘুরে যায় গল্পের মোড়।
১১. অ্যাকশন, মুহুর্মুহু গুলি
প্রযোজক-নায়ক জিৎ এবং তাঁর পরিচালক রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায় ৩-৪ বছরের পরিশ্রমে ‘চেঙ্গিজ’ সিনেমার চিত্রনাট্য বানিয়েছেন। আড়াই ঘণ্টার অ্যাকশন, মুহুর্মুহু মুড়িমুড়কির মতো গুলি বিনিময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনদের মধ্যে। যার মধ্যমণি চেঙ্গিজ ওরফে জয়দেব। কিশোর জয়দেব চোখের সামনে দেখেছিল সমাজবিরোধী রশিদ খানের হাতে মা ও পুলিশ অফিসার বাবার মৃত্যু। অনাথ জয়দেব আশ্রয় পায় সৎ পুলিশ অফিসার মামা সমীরের কাছে। একটু বড় হতেই মামা-মামী জয়দেবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বড় হয়ে সে কী হতে চায়? জয়দেবের জবাব ছিল, একদিন সে বাবা-মায়ের খুনি রাশিদকে মেরে ফেলতে চায়। এই জবাব দেওয়ার পরদিন থেকেই উধাও হয়ে যায় জয়দেব। খেলার ময়দানে টিকিটের কালোবাজারিতে হাত পাকিয়ে ওমর নামের এক ডনের নজরে পড়ে। জয়দেব হয় চেঙ্গিজ। ব্যাংকক থেকে কলকাতা শহরে মাদক চালানের প্রধান। প্রতিষ্ঠিত ডনেরা হয়ে দাঁড়ায় তার প্রতিপক্ষ। প্রায় প্রতি মিনিটে হয় চেঙ্গিজ, নয়তো প্রতিপক্ষের সঙ্গে তুমুল অ্যাকশন। তারই মাঝে প্রেমে কোন খামতি নেই। ব্যাংকক যাতায়াতের পথে নন্দিনী নামে এক সুন্দরী বিমানসেবিকাকে। হিন্দি ভাষাতেও রিলিজ হয়েছে এই ছবি।
১২. সমাজের অবক্ষয়ের ছবি
একজন সাধারণ গৃহবধূর মাফিয়া কুইন হয়ে ওঠার গল্প বলেছেন অরিন্দম ভট্টাচার্যের ‘শিবপুর’। মাফিয়া কুইন মন্দিরা বিশ্বাসের চরিত্রে দেখা মিলল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর স্বামী, মেয়ে নিয়ে ভরা সংসার। একদিন তাঁরই চোখের সামনে ঘুষ না নেওয়ার কারণে খুন হতে হয় তাঁর স্বামীকে। বারবার অনুরোধ উপরোধের পরেও কমপ্লেইন নেয় না পুলিশ। পুলিশ থেকে রাজনৈতিক দল সবই মাফিয়াদের পকেটে। এমন অবস্থায় স্বামীর হত্যার বদলা নিতে মন্দিরা অর্থাৎ স্বস্তিকা দ্বারস্থ হয় ওই অঞ্চলের অন্যতম মাফিয়া তথা মাছের সাপ্লায়ার তপন বারিকের (খরাজ মুখোপাধ্যায়) কাছে। কারণ কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চান সে। তাঁর বরকে হত্যা করেছে তপনের বিপক্ষ দলের মাফিয়া তথা জমিদার বংশের ‘সুপুত্র’ নেপাল ভট্টাচার্য। এরপর কীভাবে মাফিয়া হিসেবে উত্থান হয় মন্দিরার, কীভাবে একটু একটু করে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো করে মাফিয়া রাজ শেষ করেন মন্দিরা এবং দুঁদে পুলিশ অফিসার সুলতান আহমেদ (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়)।
১৩.শহরের উষ্ণতম দিনে রোম্যান্টিক মুডে বিক্রম-শোলাঙ্কি
কলেজ লাইফে পাঁচ জনের জমিয়ে বন্ধুত্ব হয়। তারা হলেন অনিন্দিতা সোম ওরফে শোলাঙ্কি রায়। সে কলেজের এজিএস। তাঁর দুই বন্ধু হলেন রেহান ওরফে রাহুল দেব বসু এবং ক্রিস্টিন ওরফে অনামিকা চক্রবর্তী। এদিকে অনিন্দিতা সহ তার বন্ধু সায়ক, ওরফে দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়। এদিকে আচমকাই একদিন কলেজে একটা ঝগড়ার মধ্যে দিয়ে আলাপ হয় ঋতবান ওরফে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। দেখতে দেখত অনিন্দিতা আর ঋতর একটু বেশিই ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তাঁরা একে অন্যের পাশে থাকলে সাহস পান। ভরসা পান। এবং ক্রমেই সেই বিশ্বাস, ভরসা, বন্ধুত্ব প্রেমে গড়ায়। ঋতর কথা মেনে অনিন্দিতাও বিদেশের কলেজে অ্যাপ্লাই করে। চান্সও পায়। কিন্তু ঘটনাক্রমে পড়তে যাওয়া হয় না। ঋতবান একাই যান। এখানে ঘুরে যায় গল্পের মোড়। যে যাঁর মতো তাঁরা জীবনে এগিয়ে যান। অনিন্দিতার জীবনে নতুন প্রেম আসে। তিনি তাঁর স্বপ্নপূরণ করে পছন্দের পেশায় যুক্ত হয়েছেন। এমতাবস্থায় সব তোলপাড় করে শহরে ফেরে ঋতবান। এবার? সেই নিয়েই এই গল্প। একটা নিখাদ প্রেম এবং বন্ধুত্বের গল্পকে দারুণ ভাবে ফ্রেমবন্দি করেছেন পরিচালক অরিত্র সেন। এই ছবিতে এমন ছোটখাটো জিনিস তুলে ধরা হয়ে হয়েছে যা পুরো বিষয়টিকে আলাদা মাত্রায় নিয়ে গেছে।
১৪. এক ধর্ষিতা নারীর জীবনযুদ্ধের কাহিনি
পরিচালক রাজর্ষি দের মায়া’ ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন রাফিয়াত রাশিদ মিথিলা। এছাড়াও ছবির অন্য়ান্য় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবলীনা কুমার,কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়,গৌরব চট্টোপাধ্যায়,অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়,তনুশ্রী চক্রবর্তী, সায়ন্তনী গুহঠাকুরতা, গৌরব চক্রবর্তী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, কণীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রিচা শর্মা। এই ছবির হাত ধরেই বড়পর্দায় প্রথমবার গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন দেবলীনা কুমার। আটের দশকের শেষদিকে একজন সংখ্যালঘু নারী ধর্ষিতা হওয়ার পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে মাহিরা থেকে মায়া হয়ে উঠেছে সেই গল্পই বুনেছেন পরিচালক রাজর্ষি দে।
১৫. রহস্য-রোমাঞ্চ
সোনাদার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির গল্পগুলি লিখে ইতিহাসের সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার মেশানোয় হাত পাকিয়েছেন শুভেন্দু দাশমুন্সী।। তাই ব্যোমকেশকেও সহজেই ‘মাচো ফাইটার’ বানাতে পেরেছেন, অজিতের উপর জটায়ুর খানিক ছায়া আনতে পেরেছেন, রহস্য সমাধানের যাত্রার সত্যবতীকে সহযাত্রী করে তুলেছেন, গোয়েন্দা গল্পেও বেশ বেড়ানো আর ইতিহাসের স্বাদ এনেছেন। ফলে দর্শককে রহস্য, প্রেম, সম্পর্ক, ইতিহাস, কমেডি, অ্যাকশন—সব কিছু একসঙ্গে সাজিয়েছেন। গোটা ছবিতেই দেব ওরফে ব্যোমকেশকে শার্ট-প্যান্টেই দেখা গিয়েছে। শেষের কিছু দৃশ্যে ব্যোমকেশ ধুতি পাঞ্জাবি পরেছেন।
১৬. অ্যাকশন ভালোবাসা আবেগের সংমিশ্রন
যতীন মুখার্জি হয় লড়ে, না হয় মরে। কিন্তু ধরা পড়ে না!’ এমন সংলাপেই পর্দায় হুঙ্কার দিয়েছিল বাঘাযতীন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির বীরগাঁথা নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন অরুণ রায়। দেব অভিনীত বাঘাযতীন মাল্টিপ্লেক্সের সঙ্গে জেলায় থাকা সিঙ্গেল স্ক্রিনেও ভালো ব্যবসা করেছে। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেছেন। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙেগড়ে নিয়েছেন দেব। ৫ দিনেই বাঘা যতীন আয় করে নিয়েছিল ৩ কোটির বেশি।
১৮. খাগড়াগড় বিস্ফোরণের স্মৃতি ফেরাল ‘রক্তবীজ’
২০২৩ এর পুজোয় মুক্তি পেয়েছে নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘রক্তবীজ’। এই ছবির মাধ্যমে দর্শক প্রথম বার দেখেছেন আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং মিমি চক্রবর্তীর জুটি। বহু বছর পর অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পর্দায় দেখা গিয়েছে। প্রায় দু’মাসের বেশি সময় ধরে প্রেক্ষাগৃহে চলেছে রক্তবীজ। শুধু বাংলা নয়, এই ছবি মুক্তি পেয়েছে হিন্দি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া ভাষায়। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকে ঘিরে সিনেমা বানিয়েছেন পরিচালক শিবপ্রসাদ আর নন্দিতার জুটি। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে আবির চট্টোপাধ্যায় ও মিমি চক্রবর্তীকে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর এক অষ্টমীর দিনে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে হয়েছিল এই বিস্ফোরণ। এটাই এই ছবির প্লট। যদিও বদলে নেওয়া হয়েছে স্থান-কাল-তারিখ। ইন্দোনেশিয়াতে ‘রক্তবীজ’ হাত ধরে বাংলা সিনেমার স্ক্রিনিং হয়েছে।
১৯. জঙ্গলে রহস্যভেদ মিতিন মাসির
পুজোতেই মুক্তি পেয়েছে কোয়েলের ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’। পরিচালনায় অরিন্দম শীল। মহিলা গোয়েন্দার চরিত্রে এর আগেই নায়িকাকে পছন্দ করেছেন দর্শকরা। এবার মিতিন মাসির অন্য রহস্য ভেদ করার পালা। কারও সঙ্গে কাজ করতে গেলে তার সঙ্গে একটা বন্ধুত্ব তৈরি করতে হয়। মিতিনের এই নতুন গল্পে নায়িকার সহ-অভিনেতা ছিল হাতি। কখনও হাতির গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে বন্ধুত্ব করে নিয়েছে। এটি সারান্ডার জঙ্গলের গল্প। চোরা শিকারিদের সঙ্গে তুমুল দ্বন্দ্বের পর সারান্ডায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা চোরা শিকারিদের পাকড়াও করার দায়িত্ব এসে পড়ে মিতিন মাসির হাতে। বিপদের গন্ধ শুঁকেই ‘সোলো ট্রিপ’-এর প্রস্তাব রেখেছিলেন তিনি। এরপর গল্পে ক্রমশ এগিয়েছে রহস্য, চোরা শিকারিদের ছক, জঙ্গলকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয়দের চেষ্টা, হামলার অলি-গলি বেয়ে। যত গল্প এগিয়েছে ততই যেন গাঢ় হয়েছে রহস্য।
২০. দশে দশম অবতার
২০২৩ এর পুজোয় একসঙ্গে চারটে বাংলা ছবি মুক্তি পেয়েছে। ১৯ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে সুজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘দশম অবতার’। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘২২শে শ্রাবণ’ ছবির প্রিক্যুয়াল হিসেবে তৈরি হয় এই ছবি। পর্দায় ফেরেন প্রবীর রায়চৌধুরী, ওরফে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একের পর এক খুনের কিনারা করতে যোগ দেন পুলিশ অফিসার বিজয় পোদ্দার, অভিনয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ট্রেলারেই স্পষ্ট ছিল ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাবে যীশু সেনগুপ্তকে। গোটা সিনেমাজুড়ে এই তিন তাবড় অভিনেতার সঙ্গে সমান টক্করে অভিনয় করেছেন অপর তারকা অভিনেত্রী জয়া আহসান। প্রথম পাঁচ দিনে সৃজিতের ছবি মোট সাড়ে তিন কোটি টাকার উপরে ব্যবসা করেছে। অপর একটি পোস্টে প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে এই পাঁচ দিনে, ‘দশম অবতার’ দেখতে হলমুখী হয়েছেন ১.৮ লক্ষ দর্শক।
২১. বেঁচে থাকার লড়াই
২৪ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে জিৎ এর সিনেমা ‘মানুষ। সিনেমাতে জিৎ-এর চরিত্রটি একটি সাধারণ মানুষের, যিনি পরবর্তীকালে পরিস্থিতির চাপে অসাধারণ হয়ে ওঠেন। সঞ্জয় সমাদ্দার পরিচালিত এই সিনেমায় দেখা গিয়েছে জীতু কমল এবং সুস্মিতা চ্যাটার্জীকেও। সঙ্গে শিশু শিল্পী অয়ন্যা চ্যাটার্জীকে। ড্রাগ মাফিয়া, অসহায় বাবা, আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা বলেছে জিতের এই সিনেমা। যাতে অ্যান্টি-হিরো হয়েছে জীতু কমল। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর দোর্দণ্ড প্রতাপ অফিসার অর্জুন মুখোপাধ্যায়। আদর্শ আর সৎ সাহস যার সম্পদ। এর জোরেই শহরের বেআইনি মাদকের কারবার তছনছ করে দেয় অর্জুন। ড্রাগ মাফিয়া মান্নানকেও (জীতু কমল) বেশ বেগ পেতে হয় তার জন্য। এই অর্জুনই আবার বাড়িতে পুরো ‘ফ্যামিলি ম্যান’। মিলি নামে এক মিষ্টি মেয়ের বাবা। নিজের প্রযোজনাতেই নিজের সিনেমা তৈরি করেন জিৎ। টক-ঝাল-মিষ্টি, সবরকম স্বাদের মিশেলে পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমা তৈরি করেছেন তিনি।
২২. প্রেম ভালোবাসা ও ভরপুর অ্যাকশন
বড় পর্দায় এবার অঙ্কুশ হাজরা ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। এক মুসলিম দম্পতির চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁদের। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল, গাল ভর্তি দাড়ি আর গায়ে চাদর জড়িয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন অঙ্কুশ। শৈবাল মুখোপাধ্যয়ের পরিচালন তৈরি হয়েছে কুরবান। ১০ অক্টোবর সিলভার স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। অগাস্ট মাসেই সামনে এসেছে কুরবান ছবিতে অঙ্কুশ আর প্রিয়াঙ্কার লুক। ভারত আর বাংলাদেশ দুটি জায়গাতেই মুক্তি পেয়েছে শৈবাল মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি কুরবান। চিরাচরিত গল্পের ছক ভেঙে একেবারে অন্য ধারার গল্প বলেছেন শৈবালের কুরবান।
২৩. এক পুলিশ অফিসার ও অসহায় দম্পতির গল্প
বছর শেষে ভক্তদের চমক দিয়েছে দেব অভিনীতি প্রধান সিনেমা। পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে দেবকে। অন্যদিকে, গ্রামের মাস্টারমশাইয়ের ভূমিকায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। টনিকের পর ফের একসঙ্গে দেখা গেল এই জুটিকে। অভিজিৎ সেন পরিচালিত ছবিটিতে দেবের স্ত্রীয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টেলি অভিনেত্রী সৌমিতৃষাকে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ঘেরা কাল্পনিক গ্রাম ধর্মপুর। আর সেই ধর্মপুরে যে বড় অধর্ম! চলছে পঞ্চায়েত প্রধানের কারসাজিতে নীতিহীন অরাজকতা। পঞ্চায়েত প্রধান জটিলেশ্বরই এখানে সমস্ত দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই চলে ধর্মপুর। সেই ধর্মপুরেই সদ্য বিয়ে করে বউকে নিয়ে এন্ট্রি নেবেন আরও এক প্রধান। আর ইনি হলেন থানার বড়বাবু ‘দীপক প্রধান’। আর এরপরই শুরু হবে ধর্মপুরের আসল খেলা। মমতা শংকর, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, কনীনিকা থেকে সোহম চক্রবর্তী সহ একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রীর মেলা। এক পুলিশ অফিসার ও অসহায় দম্পতির গল্প বলেছে প্রধান।
২৪. কাবুলিওয়ালা
রবি ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’র সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বাঙালির নস্টালজিয়া। আফগানিস্তান থেকে আসা কাবুলিওয়ালার সঙ্গে ছোট্ট বাঙালি মেয়ে মিনি-র সখ্যতার কথা মন ছুঁয়ে যায় বাঙালি থেকে শুরু করে বাংলার বাইরের মানুষজনেরও। ‘কাবুলিওয়ালা’ ও মিনির গল্প বহুবার পর্দায় উঠে এসেছে। ‘কাবুলিওয়ালা’ ওরফে রহমত খানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বহু স্বনামধন্য অভিনেতা। ফের একবার সেই নস্টালজিক চরিত্রে ভর করে আরও একবার তৈরি হয়েছে নতুন সিনেমা। ‘কাবুলিওয়ালা’র মূল গল্পকে সামনে রেখে বাস্তবের প্রেক্ষাপটে ছবির গল্প সাজিয়েছেন পরিচালক সুমন ঘোষ। কলকাতা ছাড়াও লাদাখ এবং আফগানিস্তানেও ছবির বেশকিছু অংশের শ্যুটিং হয়েছে। কাবুলিওয়ালা নন্দনে দেখানো হবে কিনা তা নিয়েও চলছিল জল্পনা। অবশেষে নন্দনে জায়গা পেল মিঠুন অভিনীত কাবুলিওয়ালা। এর আগে মিঠুনের অভিনীত প্রজাপতি জায়গা পায়নি নন্দনে। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক।।


More Stories
মহানায়ক উত্তম কুমার : জন্মদিনের চেয়ে মৃত্যুর দিনটি মানুষ মনে রেখেছেন, কিন্তু কেন?
ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড যেন যৌনতার ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
বউ বদল : ময়নাগুড়িতে স্বামী-স্ত্রীর বদলাবদলি নাকি বদলা ?