Home » এখনও খালি করেননি সরকারি বাংলো, মহুয়া মৈত্রকে পুনরায় নোটিস কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের

এখনও খালি করেননি সরকারি বাংলো, মহুয়া মৈত্রকে পুনরায় নোটিস কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ জানুয়ারিঃ ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় ইতিমধ্যেই খারিজ হয়েছে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ। ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছিল কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। এরপর সাংসদ কোটায় বাংলো ছাড়ার জন্য গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল নেত্রীকে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছিল ডিরেক্টরেট অফ এস্টেটস। কেননা মহুয়া মৈত্রর সাংসদ কোটায় বাংলো ছাড়ার শেষ দিন ছিল চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি। এ বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য মহুয়াকে ৩ দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সারাদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বাংলো খালি করেননি মহুয়া। বাংলো ছাড়ার সময়সীমা এদিন পেরিয়ে গেলে ১৬ জানুয়ারির পর্যন্ত তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ১৬ তারিখ মহুয়া তাঁর বাংলো খালি না করার কারণে বুধবার মহুয়া মৈত্রকে পুনরায় নোটিস পাঠাল কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, শীঘ্রই বাংলো না ছাড়লে আইন অনুযায়ী যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন   প্রধানের প্রধানগিরি বেরিয়ে যাবে, দল করতে হবে না, প্রধানকে হুমকি উদয়ন গুহের, বাড়ছে বিতর্ক

উল্লেখ্য, টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ৮ ডিসেম্বর শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন এথিক্স কমিটির রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপরই সাংসদের বাংলো খালি করার জন্য মহুয়াকে নির্দেশ পাঠাতে বলেছিল সংসদের আবাসন কমিটি। সেইমত কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন মহুয়া। ইতিমধ্যেই সেই মামলাই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদের এজলাসে দায়ের হয়েছিল সেই মামলা। দিল্লি হাইকোর্টে মহুয়ার আইনজীবী জানিয়েছিলেন, সাংসদ বাংলো খালি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারে ডিরেক্টরেট অব এস্টেট-এ আবেদন করবেন মহুয়া। প্রসঙ্গত, শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দনীর থেকে উপহার এবং অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংসদের এথিক্স কমিটি। চলতি সপ্তাহেই নিশিকান্ত এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর চিঠি পোস্ট করে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন। তার জবাবে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মহুয়া। সেই পোস্টে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাঠানো চিঠি জাল ডিগ্রিধারীর কাছে আছে শুনে খুশি হয়েছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক কবে বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের ঘরে ফর্জি দুবের অবৈধ অনুপ্রবেশের তদন্ত করবে।’ যদিও নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, মহুয়া যখন ভারতে, তখন দুবাই থেকে তাঁর সংসদীয় আইডিতে লগইন করা হয়েছিল হিরানন্দনির তরফে। এতে বিঘ্নিত হয়েছে গোটা দেশের নিরাপত্তা। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টার-কে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ও বিভিন্ন দামি উপহার নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এর বদলে তিনি ওই ব্যবসায়ীর সাজিয়ে দেওয়া প্রশ্নই সংসদে করতেন। লোকসভায় আদানি ইস্যু নিয়ে করা ৬৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রশ্ন ওই ব্যবসায়ীরই সাজিয়ে দেওয়া ছিল। এই প্রশ্নগুলি করার জন্য তৃণমূল সাংসদ তাঁর সংসদীয় ইমেইল আইডির লগ ইন ও পাসওয়ার্ডও দুবাইয়ের ব্যবসায়ীকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

About Post Author