Home » রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র লেখা চিঠি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি ধৃত তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্যর

রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র লেখা চিঠি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি ধৃত তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্যর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জানুয়ারিঃ রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নতুন বছরের শুরু থেকেই রেশন দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। এবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের লেখা চিঠি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি করলেন রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতা শংকর আঢ্য। হেফাজতে থাকাকালীন কীভাবে চিঠি লেখার জন্য কাগজ, পেন পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক? এবার সেই প্রশ্নই তুললেন শংকর আঢ্য। শংকর আঢ্যর ইডি হেফাজত শেষ হয়েছে শনিবার। এদিনই তাঁকে ইডির বিশেষ আদালতে পেশ করার আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য সিজিও কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার সময় আরও একবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেন শংকর আঢ্য। তিনি বলেন, ‘ রেশন দুর্নীতির সঙ্গে আমি কোনও ভাবেই জড়িত নই, আমি রেশন সরবরাহকারীও নই।’ এর পরই পালটা প্রশ্ন তুলে শংকর আঢ্য বলেন, ‘ হেফাজতে থাকাকালীন উনি কীভাবে কলম, কাগজ পেলেন সেটা দেখা হোক। তা হলে সত্যিটা বোঝা যাবে।’ 

আরও পড়ুন       জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে এবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির হানা

এদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে শংকর আঢ্যর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পেতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সল্টলেকের ৪ জায়গায় তল্লাশি চালান ইডি। তার মধ্যে যেমন রয়েছে রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত শঙ্কর আঢ্যর অফিস, তেমনই রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তাঁর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরবিন্দ সিংয়ের অফিসও। তাঁর কলকাতার বাড়ি, অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধার হয় প্রচুর বাংলাদেশি মুদ্রা। ভারতীয় টাকায় যা প্রায় ৮ লক্ষের কাছাকাছি। জানা গিয়েছে, শংকর আঢ্যর নামে একটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র চলত। ইডি কর্তাদের প্রশ্ন, এত বাংলাদেশি মুদ্রা কেন অফিসে? এর সঙ্গে কোনও বেআইনি বিষয় যুক্ত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য। তারই মধ্যে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে ফের ময়দানে নেমেছে ইডি।

রেশনে মোট ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলেই জানিয়েছে ইডির আইনজীবী। যার মধ্যে ২৭০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল দুবাইয়ে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে এই কারবার চলছে। শঙ্কর আঢ্যর সংস্থার মাধ্যমেই ওই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয় বলে দাবি ইডির। উল্লেখ্য, টানা ১৭ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর অবশেষে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১২টা নাগাদ রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করে ইডি। এদিন রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্স। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,শঙ্করের বাড়ি থেকে রেশন দুর্নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, শঙ্করের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি অভিযানের পর লাখ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে নগদে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, বাড়ির একটি আলমারিতে রাখা ছিল এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, যার মধ্যে বেশিরভাগই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল।

About Post Author