স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি: শুনলে অবাক লাগতে পারে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হারের পরে মোহনবাগান চাইছে ইস্টবেঙ্গল কলিঙ্গ সুপার কাপ বিজয়ী হোক। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে নামার আগে বাগান সচিব দেবাশিস দত্ত বলছেন, ‘আমি চাই ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হোক। আর আই লিগ জিতুক মহমেডান। ভারতের সেরা চারটে টুর্নামেন্ট যদি ধরা হয়, তা হলে আমরা গত বছর আইএসএল জিতেছি, এ বার মরসুমের শুরুতেই ডুরান্ড কাপ। হাতে রইল আরও তিনটে টুর্নামেন্ট। তার মধ্যে সুপার কাপ ও আই লিগ যদি ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান জেতে, তা হলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। বাংলার ফুটবলের জন্য এটা অত্যন্ত ভালো ব্যাপার। আর সেই কারণেই বেশি করে চাই, ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপ জিতুক।’ শুনতে যতই সহজ লাগুক,বৃত্ত সম্পূর্ণ করা খুব সহজ কথা নয়। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে হলে দুটি কঠিন বাধা টপকাতে হবে লাল হলুদকে। ফাইনালে যেতে হলে প্রথম সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে টপকাতে হবে ইস্পাত নগরীর ফুটবল দল জামশেদপুর এফসির বাধা। দ্বিতীয় কাপ ফাইনালে ওড়িশা এবং মুম্বাইয়ের মধ্যে কে জিতবে পরবর্তী প্রশ্ন, ইস্টবেঙ্গল এখন স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত সেমিফাইনাল নিয়েই।

বুধবার কলিঙ্গ সুপার কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল জামশেদপুর এফসির মুখোমুখি হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গল শিবিরের ভাবনা এবং দুশ্চিন্তা তিনটি বিষয়কে ঘিরে। প্রথম দুশ্চিন্তা, মিডফিল্ডে বোরহা হেরেরার অনুপস্থিতি। দুটি হলুদ কার্ড দেখায় তিনি দলে নেই। বল ডিস্ট্রিবিউশন করার পাশাপাশি গুলের সুযোগ তৈরি করার জন্যও দল তার উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল। আর বোরহা হেরেরার অনুপস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোচিং নিয়ে দুশ্চিন্তা, হলুদ কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত চিন্তিত রেফারিং ঘিরে।আর এখানেই ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় দুশ্চিন্তা। হেরেরাকে যেভাবে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গল কোচ।তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, একটি ফাউলে তিন জনকে হলুদ কার্ড দেখানো ঠিক নয়। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য , ডার্বি ম্যাচে মোহনবাগানের তিনজন রেড কার্ড দেখার মত অপরাধ করেছেন। অথচ ইস্টবেঙ্গলকেই হারাতে হচ্ছে মিডফিল্ডের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার কে। সেমিফাইনালে এই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি হলেই চরম অসুবিধার মধ্যে দল পড়তে পারে তা জানেন ইস্টবেঙ্গলের হেড স্যার। ইস্টবেঙ্গলের তৃতীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে চলেছেন ইস্টবেঙ্গলের দুই প্রাক্তনী। জামশেদপুরের গোলরক্ষক ইস্টবেঙ্গলের এক প্রাক্তনী টিপি রেহেনেশকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল খুব দুশ্চিন্তায় নেই। কারণ আপফ্রন্টে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ক্লেটন সিলভা। ক্লেটন সিলভা তিনটি ম্যাচে চারটি গোল করেছেন। আর সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে তাঁকে যিনি তাড়া করছেন সেই ড্যানিয়েল চিমা চুকুকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল শিবিরের দুশ্চিন্তা রয়েছে। লাল কার্ড দেখার কারণে একটি ম্যাচ খেলতে না পারলেও কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে দুটি গোল করা এবং অন্য একটি গোলের ক্ষেত্রে পেনাল্টি আদায় করেছিলেন চিমা চুকু।
সেমিফাইনালে তিনি দলে ফিরছেন ,তার প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে তিনি ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেন। ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন গোল মিস করে সমর্থকদের বিতৃষ্ণার কারণ হয়ে উঠলেও এখন তিনি জামশেদপুরের হয়ে ধারাবাহিক গোল করে বিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক সঞ্চার করছেন। আর অপর এক প্রাক্তনীর মগজাস্ত্রকে সমীহ করছেন স্বয়ং ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তিনি অতিমাত্রায় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, তাঁর সম্পর্কে এরকম গুঞ্জন ময়দানে ছিলই। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকার সময় তার সংস্কার দলের সংস্কারে বা উত্থানে সহায়ক হয়ে ওঠেনি, অন্তত খালিদ জামিল ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকার সময় লাল হলুদের পারফরমেন্স সেরকম কথাই বলে। তিনি এসব কারণে ছাঁটাই হয়ে যান, লাল হলুদের কোচের পর থেকে। তবুও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের হয়ে তিনি একের পর এক সাফল্য এনেছেন। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনী খালিদ জামিল ও ইস্টবেঙ্গলে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারেন। আর এরকম বিবিধ বাধা ও দুশ্চিন্তা কাটাতে ইস্টবেঙ্গল কোচ প্রথমেই বোরহা হেরেরার জায়গায় কাকে খেলানো হবে তা নিয়েই ভাবিত। ইস্টবেঙ্গল আপ ফ্রন্টে ক্লেটন সিলভা এবং ডিফেন্সে হিজাজি থাকায় মাঝ মাঠ গুছিয়ে আক্রমণে যেতে চায়।উইং দিয়ে অভ্যস্ত জায়গায় নন্দা থাকলেও সৌভিক এবং সল ক্রেসপোর পাশে বিষ্ণুকে খেলানো যায় কিনা তাও ভাবা হচ্ছে। সাপ্লাই লাইন ঠিক রাখার জন্যই অনভিজ্ঞ হলেও গতিশীল এবং স্কিলড ফুটবলার বিষ্ণু প্রথম একাদশে জায়গা পেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেনতেন প্রকারেণ জামশেদপুরের বাধা টপকাতে মরিয়া কুয়াদ্রাত।।


More Stories
গিল -রাহুলের শতরান, বড় ইনিংস গড়ছে ভারত
টি-টোয়েন্টি-তে ভারতের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স, দলে বৈভব
সিরিজ জিতল পাকিস্তান