সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি : ‘এক দশকে সঙ্ঘ ভেঙ্গে যায়’ বলেছিলেন শঙ্খ ঘোষ। কিন্ত স্পর্ধা মরে না, লিটল ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে একথাই বলা যায় । লিটল ম্যাগাজিনের স্পর্ধা আকাশছোঁয়া। শিল্প সাহিত্য ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চলতি ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ব্যতিক্রমী চিন্তাধারা ও মতামত তুলে ধরার অবাণিজ্যিক বাহন হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল লিটল ম্যাগাজিনের। বঙ্গে প্রথম লিটল ম্যাগাজিনের স্বীকৃতি দেওয়া হয় প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র-কে যা প্রকাশ পেয়েছিল ১৯১৪ সালে। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে লেখক ও পাঠকদের মধ্যে নবচেতনা সঞ্চারিত করে চলেছে লিটল ম্যাগাজিন। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগে বহু লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।তার বহু আগে সবুজপত্র ছাড়াও কল্লোল, শনিবারের চিঠি সহ একগুচ্ছ পত্র-পত্রিকা লিটল ম্যাগাজিনের প্রবাহকে আরও গতি দিয়েছে। এখনও ধারাবাহিক বিবর্তনের পথে লিটল ম্যাগ। আধুনিক সময়ে লিটল ম্যাগাজিন কোন অভিমুখে বহমান তা জানতে চলে যেতে হবে ৪৭ তম #কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার প্রাঙ্গণে লিটল ম্যাগাজিনের প্যাভিলিয়নে। এখানে পত্রপত্রিকার বাইরে এখন প্রকাশ পায় বহু ব্যতিক্রমী গ্রন্থ – প্রবন্ধ ও কবিতা। তবুও সার্বিকভাবে, লিটল ম্যাগাজিন আর অবাণিজ্যিক ব্যতিক্রমী সাহিত্য আজ সমার্থক যার পথচলা শুরু হয়েছিল প্রথার বাইরে চলা পত্রিকা দিয়ে।

বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন, “এক রকমের পত্রিকা আছে, যা আমরা রেলগাড়িতে সময় কাটাবার জন্য কিনি, আর গন্তব্য টেশনে নামার সময় ইচ্ছে করে গাড়িতে ফেলে যাই, যদি না কোনো সতর্ক সহযাত্রী সেটি আবার আমাদের হাতে তুলে দিয়ে বাধিত ও বিব্রত করেন। আর এক রকমের পত্রিকা আছে যা স্টেশনে পাওয়া যায় না, ফুটপাথে কিনতে হলেও বিস্তর ঘুরতে হয়, কিন্তু যা একবার আমাদের হাতে এলে আমরা চোখ বুলিয়ে সরিয়ে রাখি না, চেয়ে দেখে আস্তে আস্তে পড়ি, আর পড়া হয়ে গেলে গরম কাপড়ের ভাঁজের মধ্যে ন্যাপথলিনগন্ধী তোরঙ্গে তুলে রাখি, জল, পোকা আর অপহারকদের আক্রমণ থেকে বাঁচাবার জন্যে।”
বুদ্ধদেব বসুর এই উদ্ধৃতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে লিটল ম্যাগাজিনের স্পর্ধা যা আকাশস্পর্শ করে যার কারণ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আধুনিক প্রজন্মের কবির ব্যাখ্যা। কবি অদিতি বসু রায়ের কথায়, নিজের বাড়িতে থাকার মতই লিটার ম্যাগে সারাবছর লিখে চলা।
কবি অদিতি বসুরায় ও তাঁর বায়োস্কোপ
লিটল ম্যাগাজিনের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবিত নন পাঠককুল। তাঁরা জানেন অক্ষরের মধ্যে চিরায়ত প্রভাব রেখে যাবে সাহিত্য। দশ বছর ধরে মেলায় আসা দেবজিৎ পালের কথায়, মৃত্যু হয় না সাহিত্যিকের। লেখায় তিনি বেঁচে থাকেন। কোনও লেখাই তাই হারাতে পারেনা।

বর্তমান প্রজন্মের লিটল ম্যাগাজিনের প্রকাশকরাও নিজেদের যে পাল্টে ফেলেছেন যা জানা যায় তাঁদের প্রকাশনার উদ্যোগের সৌজন্যে যা কলেবর পাল্টাতে থাকে, পাল্টায় না স্পর্ধা, নতুন অভিমুখ পেতে থাকে লিটল ম্যাগাজিন। গুহালিপির প্রকাশকবৃন্দ যেমন জানালেন বড় কিছু ভাবতে ভালো লাগে, সবার প্রশ্রয় থাকলে বড় কিছু করে ওঠা সম্ভব। তাঁরা স্বপ্ন দেখেন। আর এই স্বপ্ন কলকাতা বইমেলায় ছড়িয়ে দেন মানুষের মধ্যে। এই স্বপ্ন নিয়েই বাঁচার লিটল ম্যাগাজিনের এবং স্বপ্নের মধ্যে রয়ে যায় স্পর্ধা।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চলে গেলেন শংকর
প্রাণের অভাব নাকি বই বিক্রির রেকর্ড? বইমেলার প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছেন লেখক-প্রকাশকরা?