পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক :” এক দুর্গা রিকশা চালায় কোচবিহারের হাটে / এক দুর্গা একশ দিনের কাজে মাটি কাটে ” – সব দুর্গাই থাকুক সুখে যতটা জনপ্রিয় হয়তো তার চেয়েও বেশি জনপ্রিয় তেমনই বাংলা ভাষা নিয়ে লেখা “জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না। ” কবি ও ছড়াকার ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের লেখার সঙ্গে পরিচিত নন এরকম বাঙালি হাতেগুণে পাওয়া যাবে। অতুলপ্রসাদের আ মরি বাংলা ভাষা কে উদ্ধৃত করে লেখা “যে ভাষা ভায়ের রক্তে ভাসা / যে ভাষা মায়ের অশ্রু ঠাসা ” বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে একের পর এক ছড়া, কবিতায় যিনি বহু বিষয়কে তুলে ধরেছেন ছন্দ দিয়ে তিনি আর নেই। চলে গেলেন ভবানীপ্রসাদ মজুমদার। ৭১ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণ বাংলা ভাষার এক বিরাট ক্ষতি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন পাবলো নেরুদা : বিশ্বসেরা কবি, বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব
‘ রবীন্দ্রনাথ নইলে অনাথ ‘ কবিতার লেখক সারা জীবনে কুড়ি হাজারের বেশি ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার। তাঁর কবিতায় ঝরে পড়ত বাঙালির জাত্যাভিমান তাই তিনি লিখতেন, “কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে?/বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে?”। বাঙালির বাংলা ভাষার প্রতি উদাসীনতা তাঁকে ব্যথিত করেছে, তিনি ছুঁড়ে দিয়েছেন তাঁর স্যাটায়ার বা বিদ্রুপ তাঁর শানিত বাক্যরাশি দিয়ে। ছড়া পরীক্ষায় মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা ভাষাকে করে তুলেছেন সমৃদ্ধ।
আরও পড়ুন শক্তি চট্টোপাধ্যায় : সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা
হাওড়ার মানুষ, পেশায় একদা শিক্ষক ভবানীপ্রসাদ মজুমদার মানুষের কাছে তোর কবিতার মতই জনপ্রিয় ছিলেন ভবানী স্যার নামে। বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা নিয়ে কার্যত আন্দোলন করেছিলেন তিনি, ভাষা দিবসের মাসে বিদায় নিলেন তিনি। কিছুদিন ধরেই বয়সজনিত রোগে ভুগছিলেন, সোমবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে থাকে। বুধবার তিনি চলে গেলেন। কিছু সম্মান পেলেও প্রকৃত সম্মান তিনি পেয়েছেন কিনা তা নিয়ে হয়তো আজ বিতর্ক থাকতেই পারে। ভবানীপ্রসাদ মজুমদার রেখে গেলেন বাংলা ভাষার জন্য তাঁর অবদান, রেখে গেলেন শূন্যতা।।
আরও পড়ুন কবি অদিতি বসুরায় ও তাঁর বায়োস্কোপ


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
মেরা কুছ সামান তুমহারে পাশ পড়া হ্যায়, প্রয়াত আশা ভোঁসলে
প্রয়াত কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ আবু হাশেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু বাবু