সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারিঃ জমি কেলেঙ্কারি মামলায় বুধবার প্রায় সাত ঘণ্টা ইডির ম্যারাথন জেরার পরে অবশেষে গ্রেফতার হন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফাও দেন তিনি। তাঁর অবর্তমানে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন চম্পাই সোরেন। আজই আদালতে পেশ করা হয় হেমন্ত সোরেনকে। অন্যদিকে, যদিও ইডির এই গ্রেফতারির বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন হেমন্ত সোরেন। জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা এই মামলার শুনানি হবে আগামী শুক্রবার।
আরও পড়ুন স্কুলছাত্রীর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার মালদায়, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর ক্ষুব্ধ জনতার
প্রসঙ্গত, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় দিল্লি পুলিশ ও ইডি দফতরের আধিকারিকরা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের খোঁজ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সোমবার হেমন্ত সোরেনের দিল্লির বাড়িতে চলে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি। কেননা প্রায় দু দিন হয়ে গেলেও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের। এদিন সাত সকালেই বাইরে থেকে ঘিরে ফেলা হয় গোটা বাড়ি। সোমবার দিনভর দিল্লির বাসভবন অভিযান চালিয়েও তাঁর নাগাল পায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। তারপরই হেমন্তের বিলাসবহুল BMW গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে ইডি। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর খোঁজে দিল্লি বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করে। এরপরেই হদিশ মেলে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর। সোমবার নিখোঁজ থাকার পর রাঁচির বাড়িতে ফিরেই দলের মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরবর্তীতে জানান, তিনি ইডি-র মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গত ২০ জানুয়ারি রাঁচির বাড়িতে হেমন্ত সোরেনের বয়ান রেকর্ড করেছিল ইডি। কিন্তু সেই বয়ানে কেন্দ্রীয় সংস্থা সন্তুষ্ট নয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর ২৭ জানুয়ারি ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করা হয়। এরপরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তারই মধ্যে সোমবার সাতসকালে হেমন্ত সোরেনের দিল্লির বাড়িতে হানা দেয় ইডি। এর আগে ইডি হেমন্ত সোরেনকে মোট নয়বার সমন পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। সোমবার ইডির আধিকারিকরা সরাসরি তাঁর বাড়িতেই হানা দেন। জমি কেলেঙ্কারি মামলায় এখনও পর্যন্ত একজন আইএএস অফিসার-সহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ইডি। উল্লেখ্য, গত বছরই পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে সেনাদের জমি বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জমি হাতিয়ে কোটি কোটি টাকা বেআইনি লেনদেনের কথাও জানতে পারে ইডি। সেই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মাফিয়া জড়িত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রে খবর। এই মামলাতেই রক্ষাকবচ পেতে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টেও গেছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট সোরেনের আবেদন খারিজ করে দেয়। দুটি পৃথক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে ইডি। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে ঝাড়খণ্ডের খনি কেলেঙ্কারি মামলায় হেমন্ত সোরেনের আপ্তসহায়ক পঙ্কজ মিশ্রকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। পাশাপাশি পঙ্কজ মিশ্রর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ আরও ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বেআইনি খনি ও আর্থিক তছরুপ মামলায় নাম জড়ায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের। নিয়ম ভেঙে নিজের নামে খনির লিজ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু জোর বিতর্ক। যার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর পদও খোয়াতে বসেছিলেন হেমন্ত সোরেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আস্থা ভোটে তিনি জয়ী হন।


More Stories
“সুখেন্দু শেখরের পথ নিন, দল ও পদ ছেড়ে প্রতিবাদ করুন”
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
বিস্ফোরক সাংসদ সুখেন্দু শেখরের ইস্তফা ও পদত্যাগ