Home » কোহলিরা পারেননি, স্মৃতিরা করে দেখালেন, অবশেষে আইপিএল জিতল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর

কোহলিরা পারেননি, স্মৃতিরা করে দেখালেন, অবশেষে আইপিএল জিতল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ মার্চ: আইপিএলের জন্মলগ্ন থেকে খেলছে ব্যাঙ্গালোরের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রতি বছর তারকাখচিত দল গড়ে তারা। দীর্ঘদিন দলে রয়েছেন বিরাট কোহলি, এবি ডেভিলায়ার্সের মত তারকারা। কবে কখনও প্রতিযোগিতা জিততে পারেনি তারা। আইপিএলে চোকার্স তকমা সেঁটে গিয়েছে দলের নামের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা এই ফ্র্যাঞ্জাইজিকে কিছুটা স্বস্তি দিল তাদের মেয়েরা। ১৬ বছরে যা করে দেখাতে  বিরাট কোহলিরা পারেননি। সেটাই দ্বিতীয় বছরে করে দেখালেন স্মৃতি মান্ধানারা। মেয়েদের আইপিএলের দ্বিতীয় সংস্করণ জিতে নিলেন স্মৃতিরা। রবিবার মেগা ফাইনালে ৮ উইকেটে হারিয়ে দিল দিল্লি ক্যাপিটালসকে। 

আরও পড়ুন  রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে লিভারপুলকে হারিয়ে এফএ কাপের সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানীর ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। শুরুটা খারাপ করেনি তারা। দুই ওপেনার শেফালি বর্মা ও মেগ লানিং শুরুটা দারুণ করেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখতে চলেছেন তারা। ৭ ওভারে তখন বিনা উইকেটে দিল্লির রান ৬৪। তবে সোফি মলিনক্সের অষ্টম ওভার থেকে খেলায় ফেরে ব্যাঙ্গালোর। ওই ওভারে তিন উইকেট হারায় দিল্লি। প্রথম বলে শেফালিকে ফেরান সোফি। ২৭ বলে ৪৪ রান করে আউট হন শেফালি। তৃতীয় বলে সোফি ফেরান জেমাইমা রড্রিগেজকে। টুর্নামেন্টে দুরন্ত ফর্মে থাকা ভারতীয় ব্যাটার ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। পরের বলেই আউট হন অ্যালিস ক্যাপসি। এক ওভারে দিল্লির প্রথম সারির তিন ব্যাটারকে ডাগআউটের রাস্তা দেখিয়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন সোফি। ওই ধাক্কা আর সামাল দিতে পারেনি দিল্লি। ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। সোফির পাশাপাশি বল হাতে ভেল্কি দেখান শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। তিনি ঝুলিতে পোড়েন চার উইকেট। আশা সোভানা পান ২ উইকেট।

অল্প রানের লক্ষ্য মাথায় নিয়ে নামলেও বেশ সতর্ক হয়ে শুরু করে ব্যাঙ্গালোরের মেয়েরা। কারণ, তীরে এসে তরী ডুবুক চাইছিলেন না তারা। প্রথম উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়েন স্মৃতি মান্ধানা ও সোফি ডিভাইন। নবম ওভারে ডিভাইন ফেরেন ২৭ বলে ৩২ রান করে। ব্যাঙ্গালোর অধিনায়ক স্মৃতি করেন ৩৯ বলে ৩১ রান। তারা ফিরলে দলের হাল ধরেন এলিস পেরি ও রিচা ঘোষ। তারাও বড় শটের পথে হাঁটেননি। ফলে লক্ষ্যে পৌঁছতে শেষ ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল ব্যাঙ্গালোরকে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল পাঁচ রান। তিন বলেই সেই রান তুলে নেন রিচারা। ৩৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন এলিস। আর বাংলার মেয়ে রিচা অপরাজিত থাকলেন ১৪ বলে ১৭ রান করে।

এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে ব্যাঙ্গালোর। এই মরশুমে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান এসেছে তাদের এলির পেরির ব্যাট থেকে। ৯ ম্যাচে মোট ৩৪৭ রান করেন পেরি। ১০ ম্যাচে ৩০০ রান করেন আরসিবি অধিনায়ক মান্ধানা। রিচা করেন ১০ ম্যাচে ২৫৭ রান। বল হাতে নজর কাড়েন আরসিবির শ্রেয়াঙ্কা। মোট ১৩ উইকেট নেন তিনি। তার মধ্যে ফাইনালেই চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। যদিও ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারের খেতাব পেয়েছেন সোফি মলিনক্স। প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার উত্তরপ্রদেশের দীপ্তি শর্মা।

About Post Author