সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জুলাইঃ কুলতলিকাণ্ডে ধৃত সাদ্দাম সর্দারের সুড়ঙ্গ নিয়ে ক্রমশ রহস্য দানা বেঁধেছে। এবার সাদ্দাম সর্দার এবং তাঁর বাড়ির সুড়ঙ্গ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কুলতলির ঘটনায় স্বরাষ্ট্রদফতরের কাছ থেকে একাধিক বিষয় নিয়ে জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করল রাজভবন। উল্লেখ্য, গত সোমবার সাদ্দামের বাড়িতে অভিযানে চালায় পুলিশ। সেসময়ই তাঁর বাড়ির খাটের নিচে একটি সুড়ঙ্গের হদিশ মেলে। খালের মধ্য দিয়ে সুড়ঙ্গ মিশেছে সুন্দরবনের মাতলা নদীতে। তা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী। পুলিশি জেরায় সাদ্দামের দাবি, মাগুর মাছ চাষ করার ভাবনাচিন্তা ছিল তাঁর। সে কারণে খাটের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন। সাদ্দামের বাড়ির পাশেই রয়েছে খাল। সেই খালের জলের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে ওই সুড়ঙ্গের মুখে জাল আটকে মাগুর মাছ চাষের ভাবনাচিন্তা ছিল সাদ্দামের। ইতিমধ্যেই রাজভবনের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা বিবৃতিতে গোটা ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মাতলা নদীতে ওই সুড়ঙ্গ মেশার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। এমনই একাধিক প্রশ্ন বিবৃতিতে উল্লেখ করে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যপাল বোস।
আরও পড়ুন Swastika Mukherjee : স্কোয়ার-ফিটে এবার টাকা নেবেন স্বস্তিকা, নাম লেখালেন প্রোমোটারি পেশায়?
প্রসঙ্গত, গত সোমবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গিয়ে সিপিএম নেতা মান্নানের মাছের ভেড়িতে আশ্রয় নেন সাদ্দাম। সেই ভেড়ির আলাঘর থেকেই বুধবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার থেকে সাদ্দামের খোঁজ চালানো হলেও, সে নাকের ডগাতেই লুকিয়েছিল একটি মাছের ভেড়ির চালাঘরে। বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুলতলির চুপড়িঝাড়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। নির্দিষ্ট মাছের ভেড়ির চালাঘরটি ঘিরে ফেলে তারা। সেখানেই লুকিয়ে ছিল সোনা পাচার চক্রের মাথা সাদ্দাম, সে সময়ে ঘুমোচ্ছিল সে। পুলিশকে দেখেই ফের পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। ওই ভেড়িতে সাদ্দামকে যে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই মান্নান খানকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাদ্দামের ভাই সইরুলকে এখনও খুঁজছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা ছিল, সাদ্দাম কুলতলি থেকে বেশি দূর পালাতে পারেনি। আশেপাশের সবকটি থানাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল, সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছেও সাদ্দামের ছবি পাঠানো হয়েছিল। ফলে তার এলাকাছাড়া হওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বলে যে কুলতলির মধ্যেই এভাবে লুকিয়ে থাকবে সে, তাও ভাবতে পারেনি পুলিশ। আসল সোনার মূর্তির ছবি দেখিয়ে নকল মূর্তি বিক্রি করত এই সাদ্দাম। শুধু নকল সোনা নয়, বহুমূল্য মূর্তিরও কারবার চালাত তার দল। কারবার চলত জাল নোটেরও। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে নকল সোনা গছিয়ে দেওয়া হত ক্রেতাদের। শুধু তাই নয় নিজেদের ডেরায় ঢুকিয়ে লুঠপাট ও খুন করারও অভিযোগ রয়েছে সাদ্দাম ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে এই কারবার। এখন পুলিশের তল্লাশি শুরুর পরেই গা ঢাকা দিতে থাকে এই চক্রের লোকজন। খবর পেয়ে সোমবারই সাদ্দামকে ধরতে গ্রামে ঢুকেছিল পুলিশ। কিন্তু প্রবল বাধার মুখে পড়ে তারা। অভিযোগ, সাদ্দামকে ছিনিয়ে নিতে মারধর করা হয় পুলিশকে। সাদ্দামের ভাই সইরুল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তারপর থেকেই বেপাত্তা দুই ভাই। তাদের স্ত্রীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তারপরেই শুরু হয় সাদ্দামের বাড়িতে তল্লাশি। সাদ্দামের খাট সরাতেই মেলে ৩০ ফুটের বাঁধানো সুড়ঙ্গ। যেই সুড়ঙ্গ গিয়ে শেষ হয়েছে মাতলা নদীতে। জারি ছিল তল্লাশি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বুধবার রাতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কুলতলি প্রতারণা চক্রের মূল পাণ্ডা।
#GovernorCVAnandBose
#Latestbengalinews
#KultaliFraudCase


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?