সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ আগস্টঃ আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। তরুণী চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে সিবিআই। এসবের মাঝেই আরজিকর কাণ্ডে সোমবার সকালে আচমকাই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, আরজিকরের চিকিৎসক-পড়ুয়াদের কাছ থেকে পাওয়া বেশ কিছু নথি তাঁর কাছে ছিল। তদন্তের স্বার্থে সেই নথি তিনি তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন। সেই কারণেই সিবিআই দফতরে পৌঁছেছেন।
এ প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, ‘ আমার মনে হয়েছে, চিকিৎসক-পড়ুয়াদের কাছ থেকে পাওয়া নথিতে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তা সত্য না মিথ্যা, আমি যাচাই করিনি। বিষয়টি যেহেতু এখন কলকাতা পুলিশের হাতে নেই, তাই আমি তাদের হাতে এই তথ্য তুলে দিইনি। সিবিআই তদন্ত করছে। তাই তাদের হাতে দিতে এসেছি। কলকাতা পুলিশ তদন্ত করার সময় আমার কাছে এই সংক্রান্ত লিখিত তথ্য ছিল না। তাছাড়াও আরজিকর হাসপাতালের উপর আমার দুর্বলতা রয়েছে। আমার বাবা এবং মা, উভয়ের সেখানকার পড়ুয়া ছিলেন। আমার জন্ম আরজিকরে। জুনিয়র চিকিৎসকেরা জরুরি কিছু বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মেডিক্যাল ভাষা সবটা আমি বুঝিনি। আমি বলেছিলাম, আর একটু পরিষ্কার করতে। তার মাঝেই এই দুর্ভাগ্যজনক হত্যাকাণ্ড আরজিকরে ঘটে যায়। দোষীদের বা দোষীর ফাঁসি চাই আমি। কী বিষয়ে এই নথি, আমি কারও নাম করতে চাই না। এই নথি আমি সিবিআইকে নিতে অনুরোধ করব। নিলে নেবেন। না নিলে না নেবেন। সিবিআই যদি মনে করে, এই তথ্য তাঁদের কাজে লাগবে, তবে তারা সেই জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।’
এদিকে,তরুণী চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় আরজিকরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের পর ইতিমধ্যেই আরজিকরের সিকিউরিটি সুপারভাইজার-সহ ১০ জনকে তলব করেছে সিবিআই। অভিশপ্ত ওই রাতে কোন কোন নিরাপত্তারক্ষী কর্মরত ছিলেন। কার কোন কোন ফ্লোরে ডিউটি ছিল, কার্যত তা জানতেই এবার ডিউটি রোস্টার নিয়ে সুপারভাইজারকে তলব করেছে সিবিআই। অন্যদিকে, যে দুই অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীকে আগেই হাসপাতালের তরফে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাদেরকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত শুক্রবারই আরজিকরের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে তলব করেছিলাম সিবিআই। কিন্তু এদিন সিবিআইয়ের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সন্দীপ ঘোষ এদিন দুপুরে স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই মাঝরাস্তা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় সিবিআই। প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব।


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !