Home » Champai Soren: চম্পাই সোরেন কি বিজেপিতে? তীব্র জল্পনার মাঝেই দিল্লি পৌঁছলেন চম্পাই সোরেন, কী হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডে? 

Champai Soren: চম্পাই সোরেন কি বিজেপিতে? তীব্র জল্পনার মাঝেই দিল্লি পৌঁছলেন চম্পাই সোরেন, কী হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডে? 

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ অগস্ট: ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ। তীব্র জল্পনা শুরু ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের বিজেপি যোগ নিয়ে। জল্পনার মাঝে দিল্লিতে চম্পাই সোরেন। তবে কি বিজেপিতে সত্যিই যোগ দিচ্ছেন চম্পাই সোরেন।

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির আকাশে আস্তে আস্তে করে কালো মেঘ জমছে। বলা যেতে পারে, ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার মাথায় ঘূর্ণাবর্ত শুরু হয়েছে। কারণ দলের অন্দরে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই দেখা দিয়েছে অবিশ্বাসের বাতাবরণ। সেই অবিশ্বাসের বাতাবরণের মেঘ যেন আরো কালো হয়েছে একটি জল্পনা নিয়ে। বিগত দুদিন ধরে জোর জল্পনা চলছে ঝাড়খন্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। আর সেই জল্পনার মাঝেই রবিবার দিল্লি পৌঁছলেন চম্পাই সোরেন। যদিও সূত্রের খবর তার আগে কলকাতায় শনিবার রাতেই শুভেন্দু অধিকারের সঙ্গে এক প্রস্থ বৈঠক সেরে নিয়েছেন তিনি।। বিগত লোকসভা নির্বাচনের বিজেপির ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী ইনচার্জ শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরেই যোগাযোগ রাখছিলেন চম্পাই সোরেন, দলীয় সূত্রের খবর। তারপরই রবিবার চম্পাই সোরেনের দিল্লিতে পা রাখা কার্যত জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।

আরও পড়ুন: রাজস্থান : ৬৩ বছর বয়সী বিধবাকে গণধর্ষণ, আটক ১

এর আগে চলতি বছরের ৩১ শে জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে রাজনীতির আকাশে মেঘ জমে ছিল। যদি দুর্নীতি মামলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ৩১ শে জানুয়ারি ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। বিপদকালীন পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে। হেমন্ত সোরেন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর চলতি বছরের ২ রা ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ঝাড়খণ্ডের বাঘ হিসেবে পরিচিত চম্পাই সোরেন। সরকার মোটামুটি চলছিল ভালোই। কিন্তু আবার সমস্যা সৃষ্টি হয় জামিন পেয়ে জেল থেকে হেমন্ত সোরেন ফিরে আসলে। ৪ ই জুলাই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে চম্পাই সোরেন কে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দখল করেন হেমন্ত সোরেন। তখন থেকে বেজায় চটেছিলেন চম্পাই , ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন এটা কার্যতঃ তাকে অপমান করা হলো। কিছুটা হলেও দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল কিন্তু শনিবার তিনি জানিয়েছিলেন তিনি যেখানে আছেন সেখানেই থাকবেন। আর শনিবার সন্ধ্যাতেই আচমকাই সিদ্ধান্ত বদলে চলে আসেন কলকাতায়, তারপর সেখান থেকে দিল্লী। শুধু চম্পাই সোরেন নয় তার সঙ্গে আরো পাঁচজন বিধায়ক রয়েছেন বলেও সূত্রের খবর। রবিবার সকাল থেকেই দশরথ গাগরাই, রামদাস সোরেন, চামরা লিন্ডা ,লবিন হেমব্রম ,সমীর মহান্তির ফোন বন্ধ। এই পাঁচজনের সম্পর্কে কোন তথ্যই নেই এখন দলের কাছে। ফলে ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা আশঙ্কা করছে সদল বলে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন চম্পাই। যদি বিজেপিতে যোগ দেয় সে ক্ষেত্রে কি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? সরকার কি পড়ে যেতে পারে? এ প্রশ্ন উঠছে ঘুরেফিরে। একাশি আসনের ঝাড়খন্ড বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার ৪১। শাসক জোটের হাতে ছিল ৪৭ জন। যার মধ্যে ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার ২৯ জন বিধায়ক, কংগ্রেসের ১৬ জন বিধায়ক, আরজেডি -র ১জন বিধায়ক এবং সিপিআই লিবারেশনের ১জন বিধায়ক। অপরদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে 32 জন বিধায়ক। বিজেপির ২৫ জন, আজসু-র ৩ জন, এন সিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর ১ জন এবং নির্দল ৩ জন। ফলে ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার চম্পাই সরেন এবং আরো ৫ বিধায়ক যদি বেরিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিজেপির অপারেশন লোটাস খুবই সহজ পদ্ধতিতে হবে। অর্থাৎ অনাস্থা এনে সরকার ফেলে দেওয়া অনেকটাই সহজে হয়ে যাবে বিজেপির পক্ষে। সেক্ষেত্রে দর কষাকষির খেলায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আবার হয়তো দেখা যেতে পারে চম্পাই সোরেনকে।

যদিও বিজেপি তরফ থেকে এখনোও পর্যন্ত চম্পাই সোরেনের বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি। চম্পাই সোরেন বিজেপিতে যোগদান করছেন সেটা এখনোও পর্যন্ত জল্পনার স্তরে। আর এই জল্পনা যদি বাস্তবে প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ ক্রমশ জমে ঘনীভূত হচ্ছে।

 

About Post Author