সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ আগস্ট : বাংলাদেশের বন্যার পেছনে ভারত? বাংলাদেশে প্রবল বন্যায় আটটি জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ জলবন্দী। আর এই বন্যায় বাংলাদেশ দুষছে ভারতকে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের উপদেষ্টদের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতকে আক্রমণ করে ভারতের অমানবিকতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে সেদেশে অভিযোগ উঠেছে । বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েক নেতা ত্রিপুরায় গোমতী নদীর উজানে ডাম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়াকে বাংলাদেশে আচমকা বন্যার কারণ হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশে বন্যা এবং ভারতকে এ নিয়ে দোষারোপ করায় ভারত ও অখুশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে, “ডাম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়াকে বাংলাদেশে বন্যার কারণ বলা হলেও বিষয়টি তথ্যগতভাবে সঠিক নয় ”
ভারত স্বীকার করছে না কিন্তু বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ মনে করছেন বাংলাদেশের বন্যার পেছনে রয়েছে ভারতের হাত। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের তথ্য উপদেষ্টা সরাসরি ভারতকে বাংলাদেশের বন্যার জন্য দায়ী করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক যেমন বাংলাদেশের চাউর হওয়া তথ্যকে উড়িয়ে দিয়েছে ঠিক একইভাবে ত্রিপুরার মন্ত্রী রতনলাল নাথও বাংলাদেশের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, গোমতী রিজার্ভার এর ধারণক্ষমতা ৯৪ মিটার পর্যন্ত, স্বাভাবিকভাবেই জলস্তর তার চেয়ে বেশি উঠলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জল বেরোতে থাকবে। তিনি এও ১৯৯৩ সালের পরে ২২ আগস্টের মত ত্রিপুরায় বৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই রিজার্ভারের জল ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। ভারতকে এ নিয়ে বাংলাদেশের দায়ী করার তত্ত্বটি সঠিক নয়।
ভারত জানিয়েছে , ডুম্বুর বাঁধটি সীমান্ত থেকে বেশ দূরে, বাংলাদেশের ১২০ কিলোমিটারও বেশি উজানে অবস্থিত। এটি একটি কম উচ্চতার (প্রায় ৩০ মিটার) বাঁধ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ভারতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশও এখান থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীগুলোতে বন্যা একটি যৌথ সমস্যা, যা উভয় পক্ষের জনগণের জন্যই দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অবশ্য এই তথ্য মানতে নারাজ। একদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলি দাবি করছে গজলডোবা ও ফারাক্কার মতই ডম্বুর গেট দিয়ে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, উজানের জল বাংলাদেশে ধেয়ে এসে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কোনও ধরনের আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে তথ্য উপদেষ্টা ভারতের বিরুদ্ধে কার্যত এরকমই অভিযোগ আনেন ।
বাংলাদেশের বন্যার পেছনে ভারত – অভিযোগ বাংলাদেশ যতই করুক, ভারত অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। বাংলাদেশের বন্যার পেছনে ভারতের হাত, এই তথ্য সঠিক নয়। বারবার এই একটি কথাই জানিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ নস্যাৎ করে চলেছে ভারত।।


More Stories
স্পেনের সীমান্তে মরোক্কোর অনুপ্রবেশকারী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুমিছিল অব্যাহত
বিশ্বকাপে ইতালির ট্র্যাজিক নায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা