Home » আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের পর এবার তৎপর ইডি

আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের পর এবার তৎপর ইডি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ আগস্টঃ আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের-এর পর এবার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলার যাবতীয় নথি চাওয়া হলো ইডির সদর দপ্তর থেকে। জানা গিয়েছে, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ইসিআইআর দায়ের করে ময়দানে নামবে ইডি। ইতিমধ্যেই আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই।

আরও পড়ুন SSC Upper Primary Recruitmentঃ উচ্চ প্রাথমিকে শূন্যপদে নিয়োগে জট কাটল, ১৪ হাজার ৫৩ পদে নিয়োগের জন্য মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে এর আগে গত রবিবার সকাল থেকে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। করোনার সময়ে কোভিডের জন্য আসা রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে আরামদায়ক চেয়ার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, ফ্রিজ ও আরও অনেক কিছু কেনা হয়। সরকারি টাকায় কেনা বহু জিনিসও এমন নার্সিংহোমে যেত, যার আসল মালিক স্বাস্থ্যকর্তা। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত ও তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। এখানেই শেষ নয়, একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে ইডি এবং সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

About Post Author