Home » আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি

আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর: আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতিকাণ্ডে মঙ্গলবার সকালে শহরের ছ’টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। এদিন সকাল ৬টা ৪৫ নাগাদ শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা আরজিকর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের সিঁথির মোড় সংলগ্ন বি টি রোডের বাড়ি ও নার্সিংহোমে হানা দেয় ইডি। এদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চলে চিকিৎসক-বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের সিঁথির মোড়ের বাড়ি ও নার্সিংহোমে। রাত ২টো নাগাদ দুটি বড় কাগজের বাক্স ও প্রচুর নথি নিয়ে বেরিয়ে যান ইডি-র আধিকারিকরা। তৃণমূলের শ্রীরামপুরের বিধায়ক ও চিকিৎসক সুদীপ্ত রায় আরজিকর মেডিক্যালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছিলেন। হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতিতে তাঁর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি।

আরও পড়ুন       UEFA Champions League: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাণ্ডবে ফুটবল বায়ার্নের, নজির গড়লেন হ্যারি কেন

আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আরজিকর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি-সিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত। তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে ইডি এবং সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

#RGkarHospital  #RGKARDoctorDeath #Latestbengalinews #ED  #RGKarHospitalfinancialcorruptioncase

About Post Author