Home » হাওড়ায় গোখরোর ছোবলে মৃত্যু এক পশু চিকিৎসকের

হাওড়ায় গোখরোর ছোবলে মৃত্যু এক পশু চিকিৎসকের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ অক্টবর: অবলাকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোবলেই মৃত্যু! মাছ ধরার জালে আটকে পড়া গোখরো সাপকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছোবলে প্রাণ হারালেন হাওড়ার এক সর্প বিশেষজ্ঞ। মঙ্গলবার দুপুরে হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুরে ঘটেছে ঘটনাটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ আদক। বয়স একচল্লিশ বছর। হাওড়ার দেউলপুরের বাসিন্দা তিনি। 

আরও পড়ুন: TMC MLA Sudipto Roy: আরজি করের ধাঁচে দুর্নীতি মেডিক্যালেও! সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গঠন তদন্ত কমিটি

মঙ্গলবার সকালে খসমারা বাজারে একটি বিষধর গোখরো সাপকে মাছ ধরার জালে আটকে থাকতে দেখা যায়। খবর পাওয়া মাত্র সেখানে উপস্থিত হন হাওড়া জেলার দীর্ঘদিনের পরিবেশকর্মী ইন্দ্রজিৎ। বিষধর সাপটিকে সাবধানতা বজায় রেখেই জাল থেকে ছাড়াচ্ছিলেন তিনি। অবলা সাপটি জানে না তাঁকে মারতে নয় বরং বাঁচাতে চেষ্টা করা হচ্ছে। চোখের সামান্য পলক ঝপকেই  সাপটি দাঁত বসিয়ে দেয় ইন্দ্রোজিতের হাতে। তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে গেলে হয়তো বিষ নিরোধক ওষুধে বেঁচে যেতেন হাওড়ার ওই পরিবেশকর্মী। কিন্তু সকাল ১১টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে এলাকার বাসিন্দা তুহিন ঘোষ, শুভজিৎ মাইতি এবং আরও কয়েক জন মিলে ইন্দ্রজিৎকে গাববেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। কার্যত, ততক্ষনে নেতিয়ে পড়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ। সেখানে ১০ ভায়াল এভিএস (প্রতিষেধক) দেওয়ার পরে তাঁকে উলুবেড়িয়ার হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হয়। কিন্তু উলুবেড়িয়া হাসপাতালে আর যাওয়া হয়নি তাঁর। নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা গিয়েছেন ইন্দ্রজিৎ আদক। 

আরও পড়ুন: মাওবাদী সংযোগের অভিযোগ তুলে পানিহাটি-আসানসোলে তল্লাশি পুলিশের, সঙ্গে এনআইএ

প্রায় দু’দশক ধরে হাওড়ায় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং সাপ উদ্ধারের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পেশায় পশু চিকিৎসক, তবে এলাকায় কারও বাড়িতে বিষধর সাপ দেখা গেলেই ডাক পড়ত তাঁর। রাজ্যের সর্পপ্রেমী এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারীদের মধ্যেও অন্যতম ছিলেন তিনি। হাওড়া জেলায় বাঘরোল, বনবিড়াল এবং সজারু সংরক্ষণেও দেশি-বিদেশি নানা সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন ইন্দ্রজিৎ। বন্য প্রাণীরা অবলা, অবোধ। লোকালয়ে দেখা গেলেই ভয়ে মানুষ তাঁদের মেরে ফেলতে যান। তবে ইন্দ্রজিৎ তাঁদের মধ্যে ছিলেন না। বন্য প্রাণীদের প্রতি সহনশীল স্বভাবের এই সমাজকর্মী আজ তাঁর জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিলেন এক বন্য প্রাণীর জীবন বাঁচাতে গিয়েই। 

About Post Author